শুক্রবার, ১৯ জানু ২০১৮ ১১:০১ ঘণ্টা

বাংলাদেশে জনগণের অধিকার কমেছে

Share Button

বাংলাদেশে জনগণের অধিকার কমেছে

বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের অধিকার কমেছে। অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০১৮-এর প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।

গত বছর তথা ২০১৭ সালের ঘটনাবলীর পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। ৬৪৩ পৃষ্ঠার ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশের মানবাধিকার ও অধিকার অনুশীলনের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ের প্রথমদিকেই বলা হয়েছে, গোপনে গ্রেফতার, গুম-খুন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের প্রশংসাও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, বিজিবি, ডিজিএফআই ও র‌্যাব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দায়মুক্তি পেয়ে আসছে তারা। ২০১৭ সালেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল। প্রতিবেদন মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সরকারবিরোধী নেতাকর্মী ও জঙ্গি সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। আদালতে তোলার আগে অনেককে দীর্ঘদিন ধরে গোপন আস্তানায় আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, কেউ কেউ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে যা বিচারবহির্ভূত হত্যার ব্যাপারে উদ্বেগ তৈরি করছে। আগের বছরগুলোতে যারা হয়েছে গুম, তাদের অনেকেই এখনও ফিরে আসেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাক-স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়ে এসেছে। বিরোধী মত ও সমালোচনা দমন করতে আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। সমালোচকদের শাস্তি দিতে আইসিটি আইনের ধারা ৫৭ ব্যবহার অব্যাহত রাখে সরকার। এদিকে ৫৭ ধারার জায়গায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন যে খসড়া আইনের প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে আরও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অন্তত ১৭টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যার ঘটনা।

২০১৭ সালে নারী অধিকার ও শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বাল্যবিবাহ দূর করার নীতি থাকলেও গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ‘বিশেষ পরিস্থিতি’তে ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দিয়ে আইন পাস করেছে সংসদ। এই আইনের মধ্য দিয়ে নারী অধিকার খর্র্ব করা হয়েছে মনে করা হচ্ছে। শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিক আইন সংশোধনসহ শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের ওপর বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের ওপর হামলা, হুমকি ও প্রতিশোধের জন্য কারখানা মালিকদের জবাবদিহি করা যায়নি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনকারী প্রায় ১৫০০ শ্রমিক গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের ৩৮ নেতাকে।

প্রতিবেদনে অনেক সমালোচনা থাকলেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে শরণার্থী অধিকারের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের বৃহত্তর সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অংশের পরিচালক ব্রাড অ্যাডাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক না ফেরত পাঠানোয় বাংলাদেশ প্রশংসার দাবি রাখে।’