প্রচ্ছদ

রূপা হত্যা মামলার আরও ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, মঙ্গলবার ৯ জনের

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৪৪:১৮,অপরাহ্ন ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের রূপা খাতুনকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার সোমবার আরও ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে মোট ৯ জনের সাক্ষ্য সম্পন্ন হলো। মঙ্গলবার আদালত আরও ৯ জনের সাক্ষ্য নেয়ার দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, আদালতে দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ঘণ্টা ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এদিন রূপার ভ্যানেটি ব্যাগ উদ্ধার হওয়ার ঘটনার সাক্ষী লাল মিয়া, হাসমত আলী ও ইমাম হোসেন এবং রূপার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী মধুপুরের স্থানীয় সাংবাদিক এমএ রৌফেরসাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে আসামিদের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন ও শামীম চৌধুরী তাদের জেরা করেন।

মঙ্গলবার আদালত আরও ৯ জনের সাক্ষ্য নেয়ার দিন ধার্য্য করেছেন। তারা হলেন- নিহত রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, মধুপুরের স্থানীয় বাসিন্দা কিশোর, আবদুল মান্নান, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল বারেক, লিটন মিয়া, রুবেল মিয়া, হযরত আলী ও আমেনা খাতুন।

গত বুধবার মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রোববার রূপার লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রবীর এন কুমার, পঁচিশ মাইল এলাকার রশীদ মিয়া ও রহিজ উদ্দিন এবং রূপাকে বহনকারী বাস জব্দ করার সাক্ষী মধুপুরের শ্রমিক আবুল হোসেন সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রূপাকে সনাক্ত করেন।

পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের ৩ সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com