শনিবার, ১৬ ডিসে ২০১৭ ০৫:১২ ঘণ্টা

‘তিনি তাঁর মায়ের দোয়ার বরকতেই আজ পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম হয়েছেন।’

Share Button

‘তিনি তাঁর মায়ের দোয়ার বরকতেই আজ পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম হয়েছেন।’

ইসলাম ডেস্ক : শাইখ আদিল ইবনে সালেম আল-কালবানি। পবিত্র কাবা শরিফের সম্মানিত ইমাম। তিনি দুনিয়ার সব পিতা-মাতাকেই তাঁদের সন্তানদের জন্য ভালো ভালো দোয়া করতে নসিহত করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি তাঁর নিজের জীবনের এক কঠিন সত্যকে উল্লেখ করে বলেছেন-

‘তিনি তাঁর মায়ের দোয়ার বরকতেই আজ পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম হয়েছেন।’

উপসাগরীয় অঞ্চলের এক দারিদ্র-পীড়িত ঘরের সন্তান হলেন শাইখ আল-কালবানি। তিনি ছোট বেলায় দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন। আর তাঁর মা ছিলেন অত্যন্ত দ্বীনদার মহিয়সী নারী।

শাইখ আল-কালবানি যত দুষ্টুমিই করতেন; মাকে যতই জ্বালাতন করতেন; তিনি কখনোই তাঁকে বদ-দোয়া দিতেন না; বরং তাঁর জন্য বেশি বেশি দোয়া করতেন। আর দোয়া করাটা শাইখ আল-কালবানির মায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

তাঁর মা এক বার তাঁর ওপর রাগান্বিত হয়ে আল্লাহর দরবারে আবেদন জানালেন-

‘আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত তথা সঠিক পথ দেখান; তোমাকে পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম বানান।’

আরবের কালো মানিক শাইখ আদিল ইবনে সালেম আল-কালবানি মায়ের দোয়ায় পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম হয়েছেন। লন্ডনের এক স্মৃতি চারণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান এবং প্রিয় সন্তানের পিতা-মাতদেরকে উদ্দেশ্য করে কাবা শরিফের সম্মানিত ইমাম বলেন-

‘আপনার সন্তান যখন খারাপ আচরণ করবে; তখন তাকে গাল-মন্দ বা অভিশাপ করবেন না। এতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।’

তিনি তাঁর জানা মতে পিতা-মাতার অভিশাপে বিপর্যয়ের এক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে-

‘আমি এমন একজন সম্পর্কে জানি; যিনি তার ছেলের ওপর রাগ করে বলেছিলেন, ‘যাও, মর’। ওই ব্যক্তি তার এ কথার জন্য অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন; যখন সেদিনই তার সন্তান মারা যায়।’

তাইতো তিনি দুনিয়ার সব পিতা-মাতর উদ্দেশ্যে নসিহত পেশ করে বলেছেন-

‘হে প্রিয় সন্তানের মা-বাবাগণ! আপনারা আপনাদের জবানকে হেফাজত করুন। আপনার প্রিয় ছেলে-মেয়ের জন্য উত্তম দোয়া করাকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করুন। এমনকি আপনি যখন সন্তানের আচরণে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং রেগে যান, তখনও সন্তানের জন্য ভালো দোয়া করুন।’

শাইখ আল-কালবানি প্রিয় সন্তানের পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস উল্লেখ করেন-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলা কখনো তিনটি দোয়াকে প্রত্যাখ্যান করেন না।

>> সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া;
>> রোজা রাখা অবস্থায় রোজাদারের দোয়া এবং
>> (সফর অবস্থায়) মুসাফিরের দোয়া। (তিরমিজি)

পরিশেষে…
পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম শাইখ আদিল আল-কালবানি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘যারা এ নসিহতগুলো মানুষের কাছে পৌছে দেবে; তিনি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে পরকালে নাজাতের জন্য দোয়া করবেন। এ নসিহত যেন সবার নাজাতের কারণ হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব পিতা-মাতাকেই তাঁদের সন্তানের হেদায়েত ও সঠিক পথে চলার জন্য ভালো দোয়া করার তাওফিক দান করেন। আমিন।