প্রচ্ছদ

হেলমেট ছাড়া স্টার্ট নিবে না মোটরসাইকেল! উদ্ভাবন সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র মতিউর রহমানের

প্রকাশিত হয়েছে : ১:১৫:৫৬,অপরাহ্ন ০৭ নভেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ১৭ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : হেলমেট ছাড়া চলবে না বাইক! এমনকি অ্যালকোহল বহন ও নেশাগ্রস্ত হলেও আপনার মোটরসাইকেলটি স্টার্ট নিবে না। আশ্চর্য হচ্ছেন! না আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র মতিউর রহমান রিয়াত ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ নামে একটি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন যা আপনাকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করবে।

রিয়াত চার মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ নামে ওই ডিভাইসটি উদ্ভাবন করেন।

তিনি জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হেলমেট ছাড়া কোনো বাইক স্টার্ট হবে না। এ জন্য চালক ও আরোহীকে হেলমেট পরতে হবে। এ জন্য ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ নামের ডিভাইসটি মোটরসাইকেলের নির্দিষ্ট একটি স্থানে যুক্ত করতে হবে।

মতিউর রহমান রিয়াত জানান, ডিভাইসটি বাইক থেকে বিদ্যুতশক্তি ব্যবহার করবে। হেলমেটের ওপর থাকা সোলার কোষ থেকে হেলমেটের ডিভাইসটি বিদ্যুৎ পাবে।

এ ছাড়া পেনসিল ব্যাটারি ব্যবহার করেও হেলমেটের ডিভাইস চালু রাখা যাবে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায়ও গাড়ি স্টার্ট হবে না। এ জন্য হেলমেটের সামনে একটি বায়ু সেন্সর বা ঘ্রাণ সংবেদনশীল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কেউ বাইক চালাতে পারবেন না। প্রথম অবস্থায় বাইক চালু হলেও গন্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চুরি হওয়া থেকেও সাময়িক রক্ষা পাওয়া যাবে।

রিয়াত আরো বলেন, ‘ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত ‘স্কিলস কম্পিটিশন’ প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করার প্রত্যয় ছিল আমার। সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে কম্পিটিশনে ২০১৬ সালে ‘উইন্ড পাওয়ার মিলের’ জন্য তৃতীয় স্থান অধিকার করি। এটি ছিল তীব্র বায়ুপূর্ণ এলাকা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন। তারই ধারাবাহিকতায় আমার সর্বশেষ আবিষ্কার ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রযুক্তি।’

একটি দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে রিয়াত বলেন, একবার দিনাজপুরে চোখের সামনে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মাথা থেতলে যাওয়ার ঘটনা দেখেছিলাম। সেই থেকে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করে আসছি।

মতিউর রহমান রিয়াতের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল গ্রামে। বাবা ছাতইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা ঝর্ণা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে রিয়াত বড়। ছোট ভাই নবম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর রহমান। এ পর্যন্ত ছয়টি প্রজেক্টের সফল উদ্ভাবনীর জন্য জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার।

রিয়াতের সহকর্মী আক্তারউজ্জামান ও মিথুন রায় বলেন, ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব।’

কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ড. নুরে আলম বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে ‘স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৭’ অনুষ্ঠিত হয় গত মাসে। সেখানে ১০টি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে রিয়াতের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াতের এই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।’

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘জেলা থেকে বিভাগ এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে রিয়াতের উদ্ভাবিত স্মার্ট বাইক সিস্টেমটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এরই মধ্যে জেলা পুলিশিং কমিউনিটির পক্ষ থেকে রিয়াতকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।’

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com