প্রচ্ছদ

ধেয়ে আসছে সূর্যের গোলা

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৩১:১৯,অপরাহ্ন ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরপর ভয়ংকর দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে সূর্যে। ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ প্রলয়ংকর বিস্ফোরণের পর সূর্য থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আগুনের গোলা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। আনন্দবাজার পত্রিকা।

বৃহস্পতিবার আমেরিকার ন্যাশনাল ওশনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) স্পেস ওয়েদার প্রিডিকশন সেন্টারের তরফে জানানো হয়, এ ভয়ংকর বিস্ফোরণের পর সূর্যের শরীর থেকে বেরিয়ে এসেছে দু-দুটি সোলার ফ্লেয়ার বা সৌর ফুলকি।

দ্বিতীয় সৌর ফুলকিটি অসম্ভব শক্তিশালী। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অতটা শক্তিশালী ফুলকি বেরিয়ে আসেনি সূর্যের শরীর থেকে। কম শক্তিশালী ছিল না প্রথম সৌর ফুলকিটিও।

এরা এতটাই শক্তিশালী যে সৌরবিজ্ঞানের পরিভাষায় এদের বলা হয় ‘এক্স’ পর্যায়ের সৌর ফুলকি। সূর্যের পিঠে যে বহু সৌর কলঙ্ক বা সান স্পট রয়েছে, তারই কোনো একটি বা দুটিতে ঘটেছে এ ভয়ংকর শক্তিশালী বিস্ফোরণ।

একটি ফুলকির নাম ‘এক্স-২.২’। অন্যটি ‘এক্স-৯.৩’। সান স্পটের বিস্ফোরণে ‘এক্স-৯’ পর্যায়ের এতটা শক্তিশালী আগুনের গোলা বা ফুলকি সূর্যকে শেষ উগরোতে দেখা গিয়েছিল আজ থেকে ঠিক ১১ বছর আগে ২০০৬ সালে।

নাসার খবর, সূর্যে পরপর ওই দুটি প্রলয়ংকর বিস্ফোরণের পর যে বিশাল বিশাল গোলা বা ফুলকি বেরিয়ে এসেছে, তা ইতিমধ্যে থরথর করে কাঁপিয়ে দিয়েছে মহাকাশের রেডিও তরঙ্গকে।

শুধু কাঁপিয়ে দেয়াই নয়, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেই সৌর ফুলকি, পৃথিবীর যে পিঠে তখন সূর্যের আলো পড়ছিল, সেই দিকের যাবতীয় রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্তও করে দিয়েছিল।

নেভিগেশনের জন্য যে অত্যন্ত কম কম্পাঙ্কের আলো লাগে, তাকেও ঘণ্টা খানেকের জন্য অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল সেই সৌর ফুলকি।

নাসার তরফে সৌর পদার্থবিজ্ঞানী রব স্টিনবার্গ বলেছেন, ‘সূর্যের পিঠে সবচেয়ে ভারি যে দুটি সান স্পট রয়েছে, তার মধ্যে যেটা তুলনায় ছোট, সেই সান স্পটেই ঘটেছে এ প্রলয়ংকর বিস্ফোরণ। সূর্যের সেই দুটি এলাকার নাম ‘অ্যাকটিভ রিজিওন (এআর)-২৬৭৩’ ও ‘অ্যাকটিভ রিজিওন (এআর)-২৬৭৪’। সাতটা পৃথিবীকে পাশাপাশি রাখলে তা যতটা জায়গা জুড়ে থাকে, ততটা জায়গা জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে সূর্যের এ দুটি ‘অ্যাকটিভ রিজিওন’। আর নয়টা পৃথিবীকে পরপর পিঠে চাপালে তা যতটা উঁচু হয়, সূর্যের যে এলাকাটায় ঘটেছে এ প্রলয়ংকর বিস্ফোরণ, তার উচ্চতাও ততটাই।’

সৌর পদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন, দু-দুটি অসম্ভব শক্তিশালী সৌর ফুলকি তাদের বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের পিঠ বা সারফেস থেকে তার কিছুটা ‘মাংস’ও যেন খুবলে বের করে নিয়ে আসে। এটাকেই বলে ‘করোনাল মাস এজেকশান (সিএমই)’। এটা আর ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পৃথিবীর কাছাকাছি এলে উত্তর মেরুতে থাকা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তাকে ঝেঁটিয়ে দূরে হটিয়ে দেবে। আর তখনই চৌম্বক ক্ষেত্রের কণাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ফলে উত্তর মেরুতে আরও শক্তিশালী, আরও উজ্জ্বল অরোরা বা মেরুজ্যোতি তৈরি হতে পারে। এমনকি তা রেডিও বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটা ক্ষতিও করতে পারে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com