শুক্রবার, ১১ আগ ২০১৭ ০৮:০৮ ঘণ্টা

৭২ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে কর্মসূচি

Share Button

৭২ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে কর্মসূচি

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্থমন্ত্রী তার আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিকরা।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ এ আল্টিমেটাম দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ। নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও এর বিরুদ্ধে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শাবান মাহমুদ বলেন, ‘ডিইউজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্থমন্ত্রী তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা না চান এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে যদি নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা না করা হয় তাহলে ১৬ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। প্রথম এক ঘণ্টা আলোচনা ও পরের ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারে তাকে বাধ্য করব।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘আপনি (অর্থমন্ত্রী) সাংবাদিকদের রাবিশ বলে অপমান করেছেন। আপনার এ দাবি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আপনি যদি আপনার বক্তব্য ১৭ আগস্ট এর মধ্যে প্রত্যাহার না করেন তাহলে আমরাও আপনাকে রাবিশ বলতে বাধ্য হব। আপনি নোয়াব নেতাদের শিখিয়ে দেওয়া কথা বলেছেন। নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা আদায় করে নেব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাদশা বলেন, ‘আপনি সাংবাদিকদের ভালোবাসেন। আপনার প্রতি অনুরোধ অর্থমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে আদেশ দিন, তারা যেন দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘সাংবাদিকদের বেতন শুরু হয় ১২ হাজার টাকা থেকে। আর সরকারি চাকরিতে বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে। আপনি বলেছেন, দেশে এতো পত্রিকা, টেলিভিশনের দরকার নেই! আমরা বলতে চাই, সকল টেলিভিশন, পত্রিকা তো আপনারাই অনুমতি দিয়েছেন। কেন আপনারা অনুমতি দিয়েছেন?’

এ সময় তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মালিকরা পত্রিকার নাম না দেওয়ায় ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে পারছি না। শ্রম আইনে তো এ কথা বলা নাই, যে নাম ছাড়া ওয়েজ বোর্ড গঠন করা যায় না। আপনি জাতির সঙ্গে মিথ্যা কথা বলছেন, প্রতারণা করছেন।’

‘সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, আমাদের এ কর্মসূচি আপনাদের স্বার্থে, মর্যাদা রক্ষার জন্য, আপনাদের অপমান করেছে তার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার জন্য। তাই আপনারা আমাদের যেকোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তা সফল করবেন,’আহ্বান জানান ওমর ফারুক।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, বিএফইউজের যুগ্ম সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান মিয়া, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদসহ বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে কর্মরত সাংবাদিকরা।

উল্লেখ্য, সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন-নোয়াব নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড নিয়ে একান্তে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে তথমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবি টোটালি রাবিশ, বোগাস বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রীর দাবি, সাংবাদিকরা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে বেশি বেতন পান। অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর সাংবাদিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তারা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।