বুধবার, ১০ মে ২০১৭ ১২:০৫ ঘণ্টা

নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো

Share Button

নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো

নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোও এ থেকে পিছিয়ে নেই। তারাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রায় সবগুলো দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনকে প্রাধান্য দিলেও দলীয় কৌশল প্রণয়ন করছে ভিন্নভাবেই। কোনও কোনও দল তৃণমূলে পর্যায়ে চিঠি পাঠিয়েছে প্রার্থীর তালিকা তৈরি করতে। কোনও দল আবার নির্বাচনি এলাকা ঠিক করতে গঠন করেছে নির্বাচন কমিশনও। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ধর্মভিত্তিক দলগুলো সাংগঠনিক ও জনপ্রিয়তা বিচার সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০-২০টি আসনকেই টার্গেটে নিয়েছে। দলগুলোর নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনের সময় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে ২০১৮ সালের প্রথমার্ধকে মাথায় রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা।

দলগুলোর সূত্র অনুযায়ী, এককভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা নেই প্রায় কোনও দলেরই। ব্যতিক্রম শুধু ইসলামী আন্দোলন। এই দলটির কোনও নির্বাচনি জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর কোনও জোট হলে ওই জোটে দেখা যেতে পারে দলটিকে। চরমোনাই পীরের অনুগামী, ভক্ত, মুরিদ মিলিয়ে দলটির সাংগঠনিক পরিস্থিতি ধর্মভিত্তিক অন্য দলগুলোর চেয়ে ভালো।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। শেষ পর্যন্ত কত আসনে চূড়ান্ত হবে, সেটা নির্বাচনের সময় বলা সম্ভব।’

জোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আর্দশের রাজনীতি করি। আর্দশ বিসর্জন দিয়ে কোনও জোটে আমরা যাচ্ছি না।’

খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে। এরই মধ্যে দল দুটিকে জোট থেকে বের করে আনতে দ্বিমুখী চেষ্টা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ (বিএনপি জোটকে আরও দুর্বল করতে চায় সরকার!)। তবে দল দুটি এককভাবেই নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছি। জেলায়-জেলায় চিঠি পাঠিয়েছি তালিকা পাঠাতে। তালিকা হাতে পেলেই কাজ শুরু হবে পুরোদমে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোটগত নির্বাচনে গেলে খেলাফত মজলিসের টার্গেট অন্তত তিনটি আসন। এগুলো হলো, হবিগঞ্জের মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনে আহমদ আবদুল কাদের, সিলেট বিশ্বনাথে যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী এবং খুলনার কোনও একটি আসনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি জোটে থাকলে দলটি সর্বোচ্চ দুটি আসনে জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর নতুন ইসলামী জোটে গেলে সেখানে এই আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে দলের প্রভাবশালী একটি সূত্র।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২০ দলীয় জোটে একমাত্র কওমিভিত্তিক শক্তিশালী দল। জোটগতভাবে নির্বাচনে গেলে অন্তত দুটি আসনে মনোনয়ন আশা করছেন দলটির নেতারা। যদিও এ ব্যাপারে দলের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছ বলেন, ‘আমরা ২০-২৫টি আসন টার্গেট করেছি। এসব আসনে কাজও শুরু করেছি।’

জমিয়তসূত্র জানায়, যশোরের মনিরামপুর আসনে নির্বাচন করবেন দলটির নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাছ। আর সুনামগঞ্জের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব শাহীনুর পাশা চৌধুরী। তবে শারীরিক কারণে জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন জমিয়তের কয়েকজন নেতা। এছাড়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ইতিবাচক।

ইসলামী ঐক্যজোটের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, তাদের প্রস্তুতি অন্তত ১২টি সংসদীয় আসনে। দলটির সাবেক চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আগামী নির্বাচনে তার ছোট ছেলে খেলাফতে ইসলামীর চেয়ারম্যান মাওলানা হাসানাত আমিনী এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর টার্গেট নরসিংদী শিবপুর আসন, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ’র চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আসন। ময়মনসিংহ ফুলপুর-তারাকান্দা আসনে দলের সিনিয়র নেতা মুফতি তৈয়্যব, কুমিল্লার মেঘনা-দাউদকান্দি আসনে মাওলানা আলতাফ হোসাইন ও মুন্সিগঞ্জের একটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়াতে আগ্রহী মাওলানা আবদুল হামিদ। আর ফরিদপুরের নগরকান্দায় দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা লিয়াকত, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি, গাইবান্ধায় মাওলানা যুবায়েদ আহমদ, গাজীপুর সদরে মাওলানা ফজলুর রহমান, কেরানীগঞ্জে মাওলানা জসিম উদ্দিন এবং কুমিল্লা-হোমনায় প্রার্থী হতে চান মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।

এ বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ইসলামপন্থীদের একটি নির্বাচনি জোট। আমরা প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ করছি। নির্বাচন যত কাছে আসবে, প্রস্তুতি তত বাড়বে।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে খেলাফত আন্দোলনও। এর একটি অংশের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলের ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। আমাদের ইচ্ছা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার। তবে কমপক্ষে দেড়শ আসনে আমাদের প্রার্থী থাকবে।’

জোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই কোনও জোটে যাই না। এখনও কোনও জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি— কোনও জোটেই আমরা যাচ্ছি না।’

প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্যায়ে আছে দলটির আরেক অংশও। এই অংশের আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচনে কিভাবে অংশ নেবো, এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পরই প্রার্থীর বিষয়টি ঠিক করা হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি আছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও। যদিও এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি দলটিতে। জোট নাকি একক— দলীয় ফোরামে আলোচনার পরই এ বিষয়ে দলটি কথা বলবে বলে জানান দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর বাইরে অন্যান্য মতাদর্শের দলগুলোও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তরিকত ফেডারেশন যথারীতি আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোট থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বসর মাইজভান্ডারি ও মহাসচিব এম এ আউয়াল দুজনেই দশম সংসদের নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। আগামীতেও এই দুজন মনোনয়প্রত্যাশী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।