মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রি ২০১৭ ১২:০৪ ঘণ্টা

গণপরিবহনে কৃত্রিম সংকট: ভাড়া নিয়ে কমেনি নৈরাজ্য

Share Button

গণপরিবহনে কৃত্রিম সংকট: ভাড়া নিয়ে কমেনি নৈরাজ্য

সিটিং ও গেট লক সার্ভিস তুলে নেওয়ার পরও রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য কমেনি। লোকাল সার্ভিসের নামে বাসগুলো আগের মতোই যাত্রী ভাড়া নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ফাঁকি দিতে প্রভাবশালীরা সৃষ্টি করেছেন কৃত্রিম সংকট। সোমবারও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করতে আমাদের অভিযান চলমান আছে। প্রতিটি বাসে ভাড়ার তালিকা টাঙ্গিয়ে রাখা এবং সে অনুযায়ী ভাড়া আদায় করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকামুখী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। কারণ যাত্রাবাড়ী থেকে চলাচলকারী বেশির ভাগ বাস মতিঝিল হয়ে গেলেও সেখানকার (মতিঝিল) যাত্রী তোলেনি। বাসগুলো ফার্মগেট, গাবতলী কিংবা মিরপুরের যাত্রী নিয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১১টায় গাবতলীগামী একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-২১০৮) মতিঝিলের যাত্রী উঠলে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়।
বাসের কনডাক্টর মো. নাসির বলেন, ‘আমরা শুধু গাবতলীর যাত্রী নিমু। যেখানেই নামেন ভাড়া ৩০ ট্যাকা।’ বাসটি কি সিটিং সার্ভিসের? এমন প্রশ্ন করা হলে নাসির বলেন, ‘না এহন থেইক্কা সব লোকাল। তাই বইলা সবখানে বাস থামামু না। এই এলাকার বেশির ভাগ যাত্রী মতিঝিল যায়। মতিঝিল গেলে বাস ফাঁকা অইয়া যায়। তাই আমরা মতিঝিলের যাত্রী নিমু না।’ বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে কনডাক্টর নাসির ফার্মগেটের কিছু যাত্রী তোলেন।
শনির আখড়া এলাকার বাসিন্দা আজমত হাসান বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিলের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। এই দূরত্বে যাত্রীদের নিতে চাইছে না বাসের কনডাক্টর। তাহলে আমরা যাবো কীভাবে?’ তিনি বলেন,‘আধ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে কনডাক্টরদের এই তামাশা দেখছি। তারা কাউকে পাত্তাই দিচ্ছে না।’

যাত্রী ভাড়া নিয়ে এই নৈরাজ্য বেশির ভাগ বাসেই অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীন, দিশারী, এটিসিএল, এফটিসিএল, গ্যালাক্সি,এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহন, স্বজন, বসুমতি, মিরপুর পরিবহন, বিকল্প, অসিম, সুপ্রভাত, শিকড়, ইউনাইটেড, বিহঙ্গ প্রভৃতি পরিবহন কোম্পানির বাসে লোকালের নামে সিটিংয়ের মতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়।
এদিকে বিআরটিএ’র বিভিন্ন টিম তৎপর থাকায় বেশ কিছু বাস বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেশির ভাগ বাসই অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে। তবে সোমবার গুলিস্তানে ফ্লাইওভারের নিচে খাজাবাবা পরিবহনসহ কয়েকটি কোম্পানির অন্তত দশটি বাসকে স্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘ দিনের অভ্যাস, তাই একটু সময় নিচ্ছে। আশা করি, শিগগিরই ভাড়া নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, গণপরিবহনে যাত্রী ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য থামাতে গত ৪ এপ্রিল ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি ঘোষণা দেয়, ১৫ এপ্রিল থেকে ঢাকায় সিটিং সার্ভিস কিংবা গেট লক সার্ভিস চলতে পারবে না। এ ঘোষণা কার্যকর করা হয় ১৬ এপ্রিল থেকে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে সরকার সর্বশেষ গণপরিবহনের যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া জনপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং বড় বাসে ১ টাকা ৭০ পয়সা। বিআরটিএ’র ঘোষণা অনুযায়ী, যেকোনও রুটে যাত্রীদের সর্বনিম্ন ভাড়া বড় বাসে জনপ্রতি সাত টাকা এবং মিনিবাসে পাঁচ টাকা।