মঙ্গলবার, ২৫ অক্টো ২০১৬ ১০:১০ ঘণ্টা

নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের বিশাল বিজয়

Share Button

নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের বিশাল বিজয়

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের বিপুল বিজয় ঘটেছে। প্রচার সম্পাদক ও w3-13নির্বাহী সদস্যের একটি পদ ছাড়া সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ১৭ পদেই ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দিনভর অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে ২৩ অক্টোবর রোববার দিবাগত গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি এবং কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশীর প্রতিনিধিত্বকারি এই সোসাইটির ৪১ বছরের ইতিহাসে এবারই সর্বাধিকসংখ্যক ভোটার অংশ নেন এ নির্বাচনে। এ সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৫৫১।  দুই প্যানেলে ৩৮ এবং সভাপতি পদে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৯ জনের ভোট প্রার্থনার কর্মকান্ডে গোটা কম্যুনিটি আবর্তিত হয়। ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টসহ কংগ্রেস ও সিনেটের নির্বাচন ঘিরে তেমন কোন প্রচার-তৎপরতা পরিলক্ষিত না হলেও বাংলাদেশ সোসাইটির এ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যানার, পোস্টার আর প্রচারপত্রে সয়লাব হয় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাসমূহ। গভীর রাত অবধি চলে নির্বাচনী সমাবেশ। ভোটের দিনও ৫টি কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকা রঙ্গিন সাজে সজ্জিত হয়। প্রার্থীদের সমর্থকরা প্যান্ডেল বানিয়ে সেখানে রীতিমত চা-পান আর সিগারেটের বহর নামিয়েছিলেন। দুপুর এবং রাতে পরিবেশন করা হয় বিরিয়ানি। পোস্টার আর ব্যানার লাগানো গাড়িতে ভোটারদের আনা হয় কেন্দ্রে। মোট ১১ হাজার ১৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অর্থাৎ  ৬৫% এর বেশী ভোটার কেন্দ্রে এসেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য জামান তপন এ সংবাদদাতাকে জানান, উত্তেজনা ছিল দিনভরই, কিন্তু কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকলেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে ছিলেন অঙ্গিকারাবদ্ধ।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন উডসাইডে ‘গুলশান টেরেস’ মিলনায়তনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিপুলসংখ্যক সমর্থক এবং কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ টিপু সুলতান ফলাফল ঘোষণা করেন।  ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন সভাপতি কামাল আহমেদ (৫ হাজার ৭৪৪ ভোট) এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী (৫ হাজার ৫৮৪ ভোট )। ‘কুনু-আজম’ প্যানেলের পরাজিত সভাপতি আজমল হোসেন কুনু পেয়েছেন (৪ হাজার ৭৫৪ ভোট)। স্বতস্ত্র সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি ওসমান চৌধুরী পেয়েছেন ৩০৭ ভোট।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরাজিত কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৭৩ ভোট। অর্থাৎ নির্বাচনে ভোট পড়ে প্যানেলভিত্তিক।

w3নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই বিজিত আজমল হোসেন কুনু বিজয়ী সভাপতি কামাল আহমেদকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। উল্লেখ্য, দু’বছর আগের কমিটিতে সভাপতি ছিলেন এই কামাল আহমেদ। সে নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে আজমল হোসেন কুনু সভাপতি হন। সেই কুনুকে এবার পরাজিত করলেন কামাল আহমেদ। আরো উল্লেখ্য, কামাল এবং কুনু সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। তাদের উভয়ের বাড়ী সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায়। অর্থাৎ নিউইয়র্ক অঞ্চলে প্রবাসীদের সর্বজনীন এ সংগঠনের নেতৃত্ব সিলেটিদের কব্জায় রয়েছে বেশ ক’বছর ধরেই। তবে এটি হচ্ছে দলমত নির্বিশেষে সকল প্রবাসীর প্রতিনিধত্বকারি সংগঠন এবং নির্বাচনে কখনোই আঞ্চলিকতা স্থান পায় না। তবে আগের দু’টার্মের নির্বাচনের মত এবারও বিজয় নির্দ্ধারণে এই সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আজিজের প্রভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- কামাল আহমেদ, সিনিয়র সহ সভাপতি- আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ সভাপতি- আ. খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ রুহুল আমিন সিদ্দীকি, কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- সৈয়দ এমকে জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মনিকা রায়, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- নাদির এ আইয়ুব, সাহিত্য সম্পাদক- নাসির উদ্দীন আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোহাম্মদ এম হোসেন, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- আহসান হাবিব, এবং নির্বাহী সদস্য- মোহাম্মদ সাদি মিন্টু, আবুল কাসেম চৌধুরী, ফারহানা চৌধুরী, মোহাম্মদ আজাদ বাকির ও মাইনুদ্দীন মাহবুব।
‘কুনু-আজম’ প্যানেলের দুই বিজয় প্রার্থী হলেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- মোহাম্মদ রিজু এবং কার্যকরী পরিষদ সদস্য সরোয়ার খান বাবু।
কে কত ভোট পেলেন
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারী ফলাফল অনুযায়ী ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বিজয়ী কামাল আহমেদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৪ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সোসাইটির বর্তমান সভাপতি আজমল হোসেন কুনুর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৫৪ ভোট। স্বতস্ত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ওসমান চৌধুরী পেয়েছেন ৩০৭ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী রুহুল আমিন সিদ্দিকী পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৪ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্ধি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজমের প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৯৭৩ ভোট।
সিনিয়র সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম হাওলাদার। তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৪৮১ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ নেওয়াজ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪২ ভোট।

সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত আবদুল খালেক খায়ের পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি শফি আলম (লাল সফি)-এর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৩২।
সহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত সৈয়দ এম এ জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমির প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৩০।
কোষাধ্যক্ষ পদে পুন: নির্বাচিত মোহাম্মদ আলীর পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ নিশান রহিম পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম ভূঁইয়া ৫ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বি রফিকুল ইসলাম ডালিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৫০ ভোট।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে পুন: নির্বাচিত হয়েছেন মনিকা রায়। তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৫৯২। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সেলিম ইব্রাহীম।
জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদে নির্বাচিত রিজু মোহাম্মদের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ১৫৮। তার প্রতিদ্বন্দ্বি সিরাজুল হক জালাল পেয়েছেন ৫ হাজার ১০৬ ভোট।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত নাদির এ আইয়্যুব পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি মোহাম্মদ টিপু খান পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৪ ভোট।
৫ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে সাহিত্য সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাসির উদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি শেখ হায়দার আলীর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৯৮।
ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে নির্বাচিত মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি সম্রাট হোসেন এমিলির প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৮৭২।
স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত আহসান হাবিবের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৪৩৯। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ওয়াহিদ কাজি এলিনের প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭১০।
কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে বিজয়ী ৬ জন হলেন- ফারহানা চৌধুরী (৫ হাজার ৫৫৫), মাইনুল উদ্দিন মাহবুব (৫ হাজার ৪১৮), মোহাম্মদ আজাদ বাকির (৫ হাজার ২৯৩), মোহাম্মদ সাদী মিন্টু ( ৫ হাজার ২৭৬), আবুল কাসেম চৌধুরী (৫ হাজার ১০২) এবং সরোয়ার খান বাবু (৫ হাজার ৪৩)।
কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে বিজিতরা হলেন কাজী তোফায়েল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আশরাফ আলী খান লিটন, আবুল খায়ের আকন্দ, ডা. শাহনাজ লিপি ও মইনুল ইসলাম।

ফলাফল ঘোষণার পরই নব নির্বাচিত সভাপতি কামাল আহমদ তার বিজয়ের জন্য কমিউনিটির সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রবাসীদের সর্বজনীন এ সোসাইটিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সংগঠনের সাবেক সভাপতিগণের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এম আজিজ ছিলেন ফলাফল ঘোষণার সময়েও। তিনি এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘প্রবাসীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রায় প্রদান করে গণতন্ত্রের ইতিহাসে নবঅধ্যায়ের সূচনা ঘটালেন। অনেকের আশংকা ছিল গোলযোগের। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। অধিকন্তু ভোট যুদ্ধে পরাজিতরাও এ ফলাফলকে মেনে নিয়েছেন। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যোগ্যতর প্রার্থীদের জয়ী করার জন্যে।’