প্রচ্ছদ

‘শ্রমিকেরা গালি দিয়ে বলে কীসের রোগী, তোমরা বিয়েতে যাচ্ছ’

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৫৫:৫৩,অপরাহ্ন ৩০ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ১৩ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটের সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকে মারা যাওয়া ৭ দিনের শিশু কন্যার মা বলেছেন, শ্রমিকেরা তাদেরকে পথে-পথে আটকে রাখে। অসুস্থ শিশুকে দেখানোর পরেও গালাগাল করে, বলে কীসের রোগী, কীসের হাসপাতাল, তোমরা যাচ্ছ বিয়েতে। তাদের কারণেই শিশুটি মারা গেছে।

ঘটনাটি রোববার পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনের; বড়লেখা থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড়লেখা উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী কুটন মিয়ার সাতদিনের কন্যাশিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবহন শ্রমিকরা চান্দগ্রামে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এতে চান্দগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শিশুর মা সায়রা বেগম বলেন, ‘এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই। তারারে কইছি আমার বাচ্চাটা অসুস্থ। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনেনি। আমি দেখিয়ার আমার বাচ্চাটা মারা যার। তারারে কইরাম হখলর বইন ভাগ্নি দিছইন রেবা। আমার বাচ্চাটার কষ্ট অর। ছাড়ি দেও। তারা উল্টা কইন কীসের রোগী, কীসের হাসপাতাল; তোমরা বিয়াত যাইরায়।

তিনি বলেন, একেকজন শ্রমিক একেক কথা বলে। ধমক দেয়। ড্রাইভাররে কইছি আমাকে নামাইয়া দেও। আমার শরীর কিতা করের। আমি হাঁটিয়া যাইমু গিয়া। আমার চোখের সামনে মেয়েটা ওখানেই মারা গেছে।’

শিশু কন্যার পিতা কুটন মিয়া বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে পুরাতন বড়লেখা বাজারে ড্রাইভারের কাগজপত্র, আমার বাচ্চার কাগজপত্র চেক করছে। এত অনুরোধের পরেও ছাড়েনি। আধ ঘণ্টা পর ছাড়ছে। সেখান থেকে দাসেরবাজার গিয়ে আবার আটকা পড়ি। তারা গাড়ি ব্যারিকেড দেয়। এখানেও কাগজপত্র দেখে ছাড়েনি। অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে, গাড়ি থেকে ড্রাইভারকে টেনে নামাইছে, মারধর করেছে। অনেক অনুরোধ করেছি। ছাড়েনি। তাদের ইচ্ছামত পরে ছাড়ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, চান্দগ্রাম যাওয়ার পর আবার আটকে রাখে। অনেক অনুরোধের পর আধ ঘণ্টা পর ৫০০ টাকা দাবি করে। আমি দিতে গেলে বলে তুমি দিলে হবে না ড্রাইভারকে দিতে হবে। এরই মাঝে আমার মেয়েটা মারা যায়।

“এরপর যখন তারা গাড়িতে এসে দেখেছে বাচ্চা মারা গেছে। তখন তারা গাড়িসহ বাচ্চা ছাড়ছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অ্যাম্বুলেন্স চালক শিপন আহমদ বলেন, আমি হাসপাতাল থেকে টিপ (ট্রিপ) নিয়ে পুরাতন বড়লেখা যাই। পুরাতন বড়লেখা বাজারে ৫ থেকে ৬ জন আটকায়। তারা যেতে দেয় না। বলে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছ, এজন্যে নাটক সাজাচ্ছ।আমার কলার ধরে টানাটানি করেছে। কাগজপত্র দেখতে চাইছে। আমার কাগজপত্র,বাচ্চার কাগজপত্রও দেখাই। তবু ছাড়েনি। এরপর ৫০০ টাকা দাবি করে সেটা দেওয়ার পর ছেড়েছে।

তিনি বলেন, এদের দেখলে চিনতে পারব।

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন আলী সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বলেন, আমরা শিশুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হুইপ শাহাব উদ্দিনের নিন্দা ও শোক :
পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটে বড়লেখায় অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ শাহাব উদ্দিন।

শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। এর সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com