প্রচ্ছদ

আ’লীগ-জাতীয় পার্টির জোট চ্যালেঞ্জে ফেলবে বিএনপিকে

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫৯:৪২,অপরাহ্ন ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ৫ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

জেলা সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা জোট-মহাজোটের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গণসংযোগ চালাচ্ছেন পুরোদমে। আসনটি একক কোনো দলের ঘাঁটি নয়।

বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর এ আসন থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন আ’লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আ’লীগ থেকে বিজয়ী হন আবদুজ জহুর মিয়া।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে এমপি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়া, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন।

২০০৮ সালের ভোটে বিজয়ী হন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির বেগম মমতাজ ইকবাল। তিনি লাঙ্গল নিয়ে ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৮৩টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফজলুল হক আসপিয়া ধানের শীষ নিয়ে পান ৫৮ হাজার ৯৬৪ ভোট।

নির্বাচনের সাড়ে ৩ মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল মমতাজ ইকবাল মারা গেলে উপনির্বাচনে আ’লীগের মতিউর রহমান এমপি হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।

অতীতের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে আ’লীগ ও জাতীয় পার্টি একজোট হয়ে ভোট করলে হিসাব ব্যাপকভাবে তাদের অনুকূলে থাকে। জেলার এই একটিমাত্র আসনে জাতীয় পার্টির বড় ভোটব্যাংক রয়েছে এবং দলটির সঙ্গে আ’লীগের ভোট যুক্ত হলে বিএনপির ভোটকে ছাপিয়ে যায়।

ফলে আ’লীগ এবং জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করলে এর সুবিধা পাবে বিএনপি। তবে আ’লীগ আগামী নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ। এদিকে জাতীয় পার্টিও অনড়।

দলটির প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্প্রতি সুনামগঞ্জ সফর করে বর্তমান এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এরশাদের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটা পরিষ্কার, মহাজোট একসঙ্গে নির্বাচনে গেলে মিসবার মনোনয়ন চূড়ান্ত।

এছাড়া সাবেক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত মেজর ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও সাবেক এমপি প্রয়াত বেগম মমতাজ ইকবালের পুত্র ইনান ইসলাম চৌধুরীও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

তবে থেমে নেই আ’লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এরা হচ্ছেন- জেলা আ’লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সহসভাপতি খায়রুল করিব রুমেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ। তারা নৌকার পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন- সাবেক হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়া, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাদির আহমদ এবং জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত।

সম্প্রতি এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম খালিদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল।

আসনটি জাপাকে ছাড় দেয়া না দেয়া নিয়ে আ’লীগেই দুটি ধারা রয়েছে। দলের বড় একটা অংশ আসনটি জাপার হাতে থাকাকেই ‘নিরাপদ’ মনে করছেন। ওই অংশটির বক্তব্য হচ্ছে- ‘ঘরের শত্রু’কে এমপি না বানানোর চেয়ে জাতীয় পার্টিই উত্তম। আ’লীগের শক্তিশালী প্রার্থী প্রয়াত আয়ুব বখত জগলুলের অনুসারীদের নীরব ভূমিকা জাতীয় পার্টির পালে হাওয়া দেবে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার দু’বারের মেয়র প্রয়াত জগলুল জেলার আওয়ামী রাজনীতিতে ফ্যাক্টর ছিলেন সব সময়। আসনজুড়েই তার বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে।

কথা হয় এমপি জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘এমপি হওয়ার পর মানুষের সুখে-দুঃখে আছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সব খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সর্বত্রই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করেছি। এ আসনের প্রতিটি ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। আগামী নির্বাচনের ফলাফলে এসবের প্রতিফলন ঘটবে।আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন সাধারণ মানুষ।’

আ’লীগ প্রার্থী মতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেই। এটাকে কোন্দল বলা যাবে না। এ আসনে অতীতে এমপি ছিলাম। এখনও মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। এমপি থাকাকালে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়। আশা করছি, মাননীয় নেত্রী সদরে আমাকে মনোনয়ন দেবেন। প্রার্থী হলে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

আ’লীগের আরেক প্রার্থী এনামুল কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে কেন্দ্রের অনুরোধে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। এবার দলের সব স্তর থেকেই আমাকে প্রার্থী করার জোর দাবি উঠেছে। আমি আশাবাদী দল এবার আমাকে সুযোগ করে দেবে। দলের দাবি হচ্ছে- জেলা সদরে মহাজোট থেকে এবার আ’লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে।

শাসক দলের আরেক প্রার্থী জুনেদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার রয়েছে নাড়ির সম্পর্ক। কেননা আমার পিতা প্রয়াত আবদুজ জহুর ১৯৭৩ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদে এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা আ’লীগের সভাপতি ছিলেন। তার সন্তান হিসেবে জন্মলগ্ন থেকেই আ’লীগের সঙ্গে আছি। আমি আশাবাদী আগামী নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ফজলুল হক আসপিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত দেশে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। মানুষ যদি তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগের সুযোগ পান তাহলে আ’লীগের দুঃশাসনের প্রতিশোধ ভোটের মাধ্যমে নেবে জনগণ। বিএনপি এখন সদর আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন এই আসনে মানুষের সেবা করেছি। মানুষ এসব মনে রেখেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচিত করবেন সদর আসনের সচেতন ভোটাররা।’

বিএনপির আরেক প্রার্থী জয়নুল জাকেরীন যুগান্তরকে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ নেয় তাহলে আমি সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাইব। তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি সদর আসনে দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া এবং আমি দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে বিবেচনার মধ্যে আছি। এখানে তৃতীয় কোনো প্রার্থীর অবস্থান নেই বললেই চলে। তবে নানাদিক বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাব। মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান শাসক দলের কূটকৌশল মোকাবেলা করে আসনটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হব।’

বিএনপির আরেক প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, ’বিএনপি এখনও নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। এবার তৃণমূলের দাবি উঠেছে, আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য। দল ভোটে গেলে আমি মনোনয়ন চাইব এবং আমি আশাবাদী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে।’

এ আসনে প্রার্থী হিসেবে আর যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল লতিফ জেপি ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি গোলাম রাব্বানি আহমেদ সোহেল।

তারা ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধ অবস্থানে থাকলে এ আসনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com