প্রচ্ছদ

মানব উন্নয়ন সূচকে পাক-ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৩৭:০৪,অপরাহ্ন ১১ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
Indonesia's President Joko Widodo (C), World Bank president Jim Yong Kim (3rd L), and International Monetary Fund chief Christine Lagarde (3rd R) and others pose for a group photo during a seminar at the International Monetary Fund (IMF) and World Bank annual meetings in Nusa Dua on Indonesia's resort island of Bali on October 11, 2018. - Finance ministers and central bankers from 180 nations are among 32,000 attendees in Bali for the annual meeting of the International Monetary Fund and World Bank from October 9 to 14, which takes place every three years outside of Washington. (Photo by SONNY TUMBELAKA / AFP)

বিশ্বব্যাংকের মানবসম্পদ সূচক অনুযায়ী, এ মুহূর্তে মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো আছে শ্রীলংকা।

এ সূচকে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো। বিশ্বব্যাংকের সদস্য ১৫৭ দেশের মধ্যে সবার পেছনে রয়েছে শাদ ও দক্ষিণ সুদান।

মানবসম্পদ উন্নয়নে কোন দেশ কতটা সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তার বিচার করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ নতুন একটি সূচক প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য হল- সরকারগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এ সূচকে উন্নতির জন্য দেশগুলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে মনোযোগী হবে বলে তিনি আশা করছেন।

শিশুদের আরও সম্ভাবনাময় করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এশিয়ার দেশগুলো। সূচকের শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকং।

একটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও টিকে থাকার সক্ষমতা বিচার করে ভবিষ্যতে তার উৎপাদনশীলতা এবং আয়ের সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছে বিশ্বব্যাংক। এর ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে তাদের মানবসম্পদ সূচক এবং দেখানো হয়েছে একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার, শিশুদের স্কুলে যাওয়ার গড় সময়, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত টিকে থাকার হার এবং শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠার হার- এই পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে সূচক তৈরির ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শিশু আদর্শ অবস্থায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠতে পারলে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তার উৎপাদনশীলতা যে অবস্থায় পৌঁছানোর কথা, বাংলাদেশে জন্ম হলে তার উৎপাদনশীলতা হবে তার ৪৮ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে এ হার ৪৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩৯ ও মিয়ানমারে ৪৭ শতাংশ। আর শ্রীলংকায় ৫৮ ও নেপালে ৪৯ শতাংশ।

সূচকের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরে এই হার ৮৮ শতাংশ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮৪ শতাংশ।

কানাডায় এ হার ৮০ শতাংশ, জার্মানিতে ৭৯, যুক্তরাজ্যে ৭৮, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে ৭৬, রাশিয়ায় ৭৩, চীনে ৬৭, তুরস্কে ৬৩ ও ব্রাজিলে ৫৬ শতাংশ।

আর সূচকের তলানিতে থাকা শাদে এ হার ২৯ ও সাউথ সুদানে ৩০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত টিকে যাওয়া শিশুর হার ৯৭ শতাংশ। ভারতে এ হার ৯৬, পাকিস্তানে ৯৩ ও শ্রীলংকায় ৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশে একটি শিশু ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত গড়ে ১১ বছর স্কুলে কাটায়। ভারতের ক্ষেত্রে এই সময় গড়ে ১০.২ বছর, পাকিস্তানে ৮.৮ বছর ও শ্রীলংকায় ১৩ বছর।

এ শিক্ষার মান বুঝতে বিশ্বব্যাংক হরমোনাইজড টেস্ট স্কোর পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কোর ৩৬৮। এই মানদণ্ডে শ্রীলংকার শিশুদের স্কোর ৪০০, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। নেপালে ৩৬৯, ভারতে ৩৫৫ ও পাকিস্তানে ৩৩৯।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে এখন যাদের বয়স ১৫ বছর, তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশের প্রত্যাশিত আয়ু হবে ৬০ বছরের বেশি। এদিক দিয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা রয়েছে একই কাতারে। ভারতে এ হার ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮৪ ও নেপালে ৮৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৬৪ জন কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বেড়ে ওঠে। ভারতে এ সংখ্যা ৬২, পাকিস্তানে ৫৫ ও শ্রীলংকায় ৮৩ জন।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলমান বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com