প্রচ্ছদ

সুনামগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:৩৯:০১,অপরাহ্ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ২০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জ শহরের পশ্চিমবাজারে একটি ভুষিমালের দোকানসহ গোদামঘর এবং পাশের তিনটি বাসার মালামাল ও আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে এই ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে দমকলবাহিনী আসলেও যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাসার মালিকদের সাথে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র আইনজীবীগণ, পৌর মেয়র, ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ নানা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসের লিডার জগদীশ দেবনাথ জানান, জলাশয় থেকে পানি উত্তোলনের পাম্প চালু করার পর বারবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা একাধিকবার পানি উত্তোলন করতে চেষ্টা করি। পরে নতুন পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করে আগুন নেভানো হয়। আগুন নেভাতে আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বে অবহেলা ছিল না। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে।’

আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক মৃত্যুঞ্জয় রায় মিঠু, রুমি রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শী সম্ভু রায় জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাত আনুমানিক ৪টায় দোকানের কর্মচারীরা হঠাৎ দেখতে পায় দোকানে আগুন লেগে গেছে। কর্মচারীদের অনুমান দোকানে থাকা ভোজ্য তেলের ড্রামে আগুন লেগেছে।

তবে তারা আরও জানান, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এই আগুন লাগতে পারে। আগুনে দোকানে থাকা ভুষিমালের পুরো দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। দোকানঘর পুড়ে যাওয়ার পর পাশের গোদাম ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গোদামঘর থেকে পর্যায়ক্রমে এলাকার ৩টি বাসায় আগুন লেগে যায়। দোকানে আগুন লাগার পরপরই ফোনে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। কিন্তু ১৫ মিনিট পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যাওয়ার দেখতে পান তাদের গাড়িতে পানি নেই এবং পানি তোলার মেশিনও নষ্ট পড়ে। এরপর অফিস থেকে নতুন মেশিন এনে নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন প্রায় সব জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসেছিল, কিন্তু যদি তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো হয়তো এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না।

আগুনে ভুষিমালের দোকানের তেলের ড্রাম ও টিন, মশলাপাতির বস্তা, ডাল, চাল, আলু, পিয়াজ, মরিচ, রসুন ইত্যাদি মালামালের বস্তা, সাবানের কার্টুন, লবণ, চিনি, বেসন, চিড়া ইত্যাদির বস্তাসহ সকল মালামাল জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনটি বাসার সকল আসবাবপত্র, টিভি, কাপড়-চোপড়, থালা-বাসন, আলমিরা, ঘরে রাখা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। আগুনের উত্তাপে পাকা দেয়াল খসে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক মৃত্যুঞ্জয় রায় মিঠু বলেন, ‘আমার ভুষিমালের দোকানে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এছাড়া আগুনে আমাদের পাশের ক্ষিতেশ রায়, রাজু রায় ও পুলক রায়ের বাসার সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের দোকানের মালামাল ও বাসার আসবাবপত্রসহ প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com