প্রচ্ছদ

মাধবপুরে ঋণের চাপে আদিবাসীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত হয়েছে : ২:২৬:১২,অপরাহ্ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে প্রায় ৮ মাস পলাতক থাকার পর বাঁশঝাড়ে গলায় শার্ট পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সঞ্জিত প্রধান (৩৫) নামে এক আদিবাসী দিনমজুর।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাধবপুর থানা পুলিশ সুরমা চা-বাগানের ১০নং ডিভিশনের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত সঞ্জিত প্রধান উপজেলার সুরমা চা-বাগানের ললিত প্রধানের ছেলে।

মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সুরমা চা-বাগানের ৯নং মালগোপ এলাকার ললিত প্রধানের ছেলে সঞ্জিত প্রধান বাগানে কাজ না থাকায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বস্তিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরের কাজ করতেন। সঞ্জিত বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা ও চড়া সুদে ঋণ আনতেন।

এরই মধ্যে সঞ্জিত অনেক টাকা ঋণ হয়ে পড়ে ও পাওনাদাররা ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ঋণদাসের চাপ ও টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে প্রায় ৮ মাস আগে সঞ্জিত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরই মধ্যে তার একমাত্র মেয়ে নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার তার শ্বশুরবাড়ি রশিদপুর চা-বাগানে মারা যায়।

এ খবর পেয়ে সঞ্জিত রোববার তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখান থেকে সোমবার সন্ধ্যায় সুরমা চা-বাগান তার বাড়িতে আসে। রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে রাত ১০টার দিকে সঞ্জিত তার মাকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে যাচ্ছে বলে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রছাত্রীরা বাঁশঝাড়ে গলায় শার্ট পেঁচানো সঞ্জিতের লাশ দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এ ব্যাপারে মাধবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com