প্রচ্ছদ

সুনামগঞ্জে ৭টি অভ্যন্তরীন সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:২৩:০১,অপরাহ্ন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ২৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জ জেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ৭টি অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থা বেহাল। খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলো সংস্কার না হওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে বেহাল সড়কগুলো সংস্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রাস্তার নাজুক অবস্থার কারণে এসব সড়কে ঘনঘন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানিয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর-লাউড়েরগড় সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল থাকায় পর্যটকরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

শুক্র ও শনিবার (২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর) এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে পর্যটন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট সিরাজ লেক, লাকমাছড়া, বারিক্যা টিলা, শিমুল বাগান, যাদুকাটাসহ জেলার পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরতে বিড়ম্বনায় পড়েন তারা।

সরেজমিন সড়ক জনপথ ও এলজিইডির অভ্যন্তরীণ কয়েকটি রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে সড়কগুলোর অবস্থা যাতায়াতের অনুপযোগী। দিরাই-মদনপুর, মদনপুর-জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর, ধনপুর-লাউড়েরগড়, আমবাড়ি-ছাতক, দিরাই-শ্যামারচর সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। রাস্তার মধ্যখানে বিশালাকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন গর্তগুলো বড় হচ্ছে। মূল রাস্তার মাটি দেখা যাচ্ছে স্থানে স্থানে।

সুনামগঞ্জ-আমবাড়ি-ছাতক সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের অংশ কিছুটা ভালো থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অংশের অবস্থা বেহাল। সুনামগঞ্জ-ছাতকের সঙ্গে সংযোগকারী এই সড়ক দিয়ে সহজ ও অল্প সময়ে যাতায়াতের লক্ষ্যে সড়কটি চালু করা হলেও শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজের কারণে স্থানে স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। দোয়ারা ও ছাতক উপজেলার কিছু অংশ চলাচলের অনুপযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভাঙ্গন বেড়েই চলছে।

সড়ক বিভাগের দিরাই-মদনপুর সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। নোয়াখালি থেকে দিরাই বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা একেবারেই বেহাল। বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে স্থানে স্থানে। তাছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তাটিতে খানাখন্দ বেশি থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী ও পরিবহন-মালিক শ্রমিকদের দাবি। সড়কটি বেহাল থাকায় সম্প্রতি গাজীনগর ও শরিফপুরে তিনটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এই ভাঙ্গন কবলিত সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে তিনটি উপজেলার জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া কিছুদিন আগে এই সড়কের ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এই কাজেও চরম অনিয়ম হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। এখন দিরাই-মদনপুর সড়কের ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অংশ চলাচলের অনুপযুক্ত। এই সড়ক দিয়ে দিরাই, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদরের একটি অংশের মানুষ বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেন।

সড়ক বিভাগের সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের অবস্থাও বেহাল। আব্দুজ জহুর সেতু চালুর পর তড়িঘড়ি করে কাজ করা হলেও কয়েক মাস যাওয়ার পরই সড়কটিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। টুকেরবাজার থেকে সাচনা পর্যন্ত পুরো সড়কই এখন চলাচলের অনুপযুক্ত। এলাকাবাসী নানা সময়ে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এই সড়কের স্থানে স্থানে বিশাল ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর এবং ধর্মপাশাসহ কয়েকটি উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। রাস্তা খারাপ থাকায় তারা নিত্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সড়ক বিভাগের সুনামগঞ্জ তাহিরপুর সড়কের অবস্থাও খারাপ। কিছু অংশ সংস্কারের ফলে ভালো দেখালেও নিম্নমানের কাজের কারণে আবার ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাছাড়া বন্যার পর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে। এই সড়ক দিয়ে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশার মানুষজনও যাতায়াত করেন। তাছাড়া পর্যটকদের একমাত্র এই সড়ক ব্যবহার করেই গন্তব্যে যাতায়াত করতে হয়।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। মদনপুর-জামালগঞ্জ সড়কটির বেশিরভাগই ভাঙ্গাচোরা। কাঠইর থেকে শাখাইতি পর্যন্ত স্থানে স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শাখাইতি থেকে হোসেননগরের সেতু পর্যন্ত সামান্য রাস্তা ভালো থাকলেও হোসেননগর থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত পুরো রাস্তাই বেহাল। কিছুদিন আগে কাজ হলেও কাজেও চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করেনি ঠিকাদাররা।
জানা গেছে, সম্প্রতি কাঠইর-জয়নগর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাক্কলন করে টেন্ডারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরই টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়ক দিয়ে জামালগঞ্জ, সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বড় একটি জনগোষ্ঠীকে দুর্ভোগের যাতায়াত করতে হয়।

এলজিইডির ধনপুর-লাউড়েরগড় সড়ক গত ১০ বছর ধরে সংস্কার হচ্ছে না। এই সড়কের শরিফগঞ্জ থেকে পুরান লাউড় পর্যন্ত রাস্তার অস্তিত্বই নেই। মূল রাস্তার পাকা অংশ ভেঙ্গে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়ছে। ধনপুর থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে পর্যটকসহ দুটি উপজেলার মানুষজন যাতায়াত করেন। পাথর ও বালুসহ ভারি মালামাল পরিবহনে ভারি যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না থাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠছে যানবাহনগুলো।

জানা যায়, এই সড়কের পলাশ-চিনাকান্দি সড়ক গত তিন বছর ধরে সংস্কার করা হলেও কাজ হয়েছে নিম্নমানের। সড়কে কোন মতে কাজ করা হলেও ব্রিজের অ্যাপ্রোচগুলো এখনো কাজ করা হয়নি। কাজ করার পরই পলেস্তরা উঠে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের আমির উদ্দিন বলেন, দিরাই-সুনামগঞ্জ সড়ক সিলেট, সুনামগঞ্জ, ঢাকাসহ আমাদের জরুরি যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। কিন্তু সড়কটির অবস্থা বেহাল থাকায় যাতায়াত চরম দুর্ভোগের হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এবং সংস্কার করালেও নিম্নমানের কাজের কারণে রাস্তাটি দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। ভাঙ্গাচোরার কারণে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাঠইর ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন বলেন, কাঠইর জামালগঞ্জ সড়কটি চলাচলের অনুপযুক্ত। গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করলেও সাবধানে গতি কমিয়ে চালাতে হয়। সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

তাহিরপুরের বাসিন্দা টনি দীব্রা বলেন, ধনপুর-লাউড়েরগড় সড়কটির অবস্থা চলাচলের অনুপযুক্ত। শরিফগঞ্জ থেকে পুরান লাউড় পর্যন্ত মূল রাস্তার পাকা অংশের অস্তিত্ব নেই। এখন মাটি বেরিয়ে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই যাতায়াত করা কঠিন হয়ে ওঠে। এই রাস্তাটি গত এক দশক ধরে সংস্কার হচ্ছে না। ফলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা বারিক্যাটিলা, যাদুকাটা, টেকেরঘাট, শিমুল বাগান ঘুরতে গিয়ে পর্যটকরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমেদ বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কাঠইর জামালগঞ্জ সড়কসহ সংস্কারের উপযুক্ত সড়কগুলোও টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় আছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামকে ৮ বার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com