প্রচ্ছদ

জেসমিনের জামিন নামঞ্জুর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৪১:২৬,অপরাহ্ন ১৪ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ৪২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় হল-মার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। তবে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জেসমিনের মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপনের পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ড. কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেন।

উল্লেখ্য, সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না তিন বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে আছেন জেসমিন ইসলাম।

আদালতে জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহরীন ও এ কে এ আমিন উদ্দিন। এ মামলায় দুদকের আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

খুরশীদ আলম খান জানান, জেসমিন ইসলাম জামিন পাননি। তবে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পদক্ষেপ নিতে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আমিন উদ্দিন জানান, গত ১৭ জুলাই জামিন নিয়ে রুল শুনানির সময় তার আইনজীবী জেসমিন ইসলাম অসুস্থ জানালে হাইকোর্ট কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে তার (জেসমিন ইসলাম) মেডিকেল রিপোর্ট চান। কাশিমপুর কারাগারের চিকিৎসক গত ২ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক মেডিকেল প্রতিবেদন পাঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জেসমিন ইসলাম হাইপারটেনশন, কার্ডিওলজি, গাইনি ও সাইকোলজিক্যালসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাকে এরই মধ্যে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর জেসমিন ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জয়নাল আবেদিন। মামলার দিন বিকালে তাকে দুদকের একটি দল রাজধানীর বংশাল থেকে গ্রেফতার করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, হল–মার্কের চেয়ারম্যান ও এমডি তাদের প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক এবং মীর জাকারিয়াকে ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক সাজিয়ে জনতা ব্যাংকের জনতা ভবন কর্পোরেট শাখায় একটি হিসাব খোলেন।

প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির কোনো মালামাল আমদানি-রফতানি না হওয়া সত্ত্বেও আমদানি-রফতানির ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। ওই সব রেকর্ড ব্যাংকটির ওই শাখা থেকে সোনালী ব্যাংকের শেরাটন কর্পোরেট শাখায় পাঠানো হয়।

সোনালী ব্যাংক থেকে ওই কাগজপত্রের বিপরীতে আনোয়ারা স্পিনিং মিলস ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের হিসেবে বিলের সমপরিমাণ মূল্য ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা জমা হয়, যা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে জেসমিন ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। মামলায় গত বছরের ১৭ আগস্ট বিচারিক আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট একই বছরের ৫ নভেম্বর তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com