প্রচ্ছদ

গোলাপগঞ্জে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৪৭:৫২,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০১৮ | সংবাদটি 0 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে লক্ষীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আহমদ ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

এই দুই প্রভাবশালী নেতা সওজ’র দোহাই দিয়ে গাছ কাটলেও এ বিষয়ে অবগত নয় সওজ কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের মুকিতলা থেকে লক্ষীপাশা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তার পাশে থাকা সরকারের মালিকানাধীন বেলজিয়াম, ইউক্যালিপটাস (আকাশী গাছ) সহ বিভিন্ন প্রকারের শত শত গাছ কেটে মাটিতে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের বড় বড় ডাল কেটেও রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই নেতা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদও করছে পারছেন না।

মুকিতলা গ্রামের বাবলু আহমদ এ বিষয়ে জানান, রাস্তার পাশের গাছ কারা কাটছেন এলাকাবাসী কাজে থাকা কয়েকজন শ্রমিককে জিজ্ঞেস করলে তারা আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন সওজ’র কাছ থেকে লিজ এনেছেন এ জন্য তারা গাছ কাটছে বলে জানায়।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের স্থানীয় সুদির পাল নামের এক ব্যক্তি জানান, লিজ নিয়ে রাস্তার পাশের গাছ কাটা হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে কারা গাছ কাটছে তাদের পরিচয় দিতে তিনি রাজি হননি।

এ ব্যাপারে লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলো ডালপালা কেটে পরিষ্কার করার জন্য সওজ’র কাছ থেকে লক্ষীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আহমদ লিজ এনেছেন। আমি তাকে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে সহযোগিতা করছি।

এ ব্যাপারে লক্ষীপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আহমদ মুঠোফোনে জানান, আমাকে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব দিয়েছে রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলোর ডালপালা কেটে পরিষ্কার করার জন্য। তবে সওজ কর্তৃপক্ষ আমাকে কোন লিজ দেয়নি। গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গাছের ডালপালা কাটায় নিযুক্ত শ্রমিকদের টাকার বিনিময়ে গাছের ডাল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নছিরুল হক শাহিনের সাথে যোগাযোগ কর হলে তিনি জানান, তারা কিসের উপর ভিত্তি করে গাছ বা গাছের ডাল কাটছে আমার জানা নেই। তবে তারা গাছ কাটার অনুমতির কোন কাগজপত্র আমাকে দেখাতে পারেনি।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, লক্ষণাবন্দে গাছ কাটার বিষয় আমাকে কেউ কোন কাগজপত্র দেয়নি। সওজ’র কাছ থেকেও কোন কাগজপত্র আমার কাছে আসেনি। যারা গাছাকাটার সাথে জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে সিলেটের সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঢাকাদক্ষিণ-পাহাড় লাইন সড়কের লক্ষণাবন্দ মুকিতলা থেকে লক্ষীপাশা বাজার পর্যন্ত কাউকে গাছ কাটতে লিজ দেওয়া হয়নি। ডালপালা কাটতেও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এ রকম কেউ গাছ কাটতে তা সম্পন্ন বেআইনি। সওজ কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।