বুধবার, ১৩ জুন ২০১৮ ০১:০৬ ঘণ্টা

সংসদে ফের সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী

Share Button

সংসদে ফের সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে ফের সমালোচনার মুখে পড়লেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর দিনে সংসদ সদস্যরা তার তীব্র সমালোচনা করেন। এর আগে রবি ও সোমবার বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর হন।

মঙ্গলবার বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক বাঁচাতে টাকা দিচ্ছেন, একবার কর ছাড় দিচ্ছেন, একবার ভর্তুকি দিচ্ছেন। এ রকম করে ব্যাংককে রক্ষা করা যাবে, কিন্তু অর্থনীতির রক্ষা হবে না। ব্যাংক থাকবে, অর্থনীতি কলুষিত হবে। এক মণ দুধে এক ফোঁটা টকই যথেষ্ট।’ এ সময় তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশের জায়গায় এক শতাংশ কমানোর দাবি জানান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় ডাব খেতাম, রস খেতাম। তখন বলত চুরি করেছি। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, অথচ লুট বলা যাবে না। রাষ্ট্র ব্যাংককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। ব্যাংক কাদের টাকা দিচ্ছে তার জবাবদিহিতা নাই। জনগণের টাকায় কেন ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে? শাস্তি না দিয়ে টাকা দিচ্ছেন। আবারও একই অবস্থা হবে।’

একই দলের ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বাজেটকে ব্যাংক খাতের রক্তক্ষরণের বাজেট আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে কর্পোরেট কর আড়াই ভাগ কমানো হয়েছে। কিন্তু অন্য কর্পোরেট খাতে ৪০ শতাংশ রেখে দিয়েছেন। যে খাত ভালো করছে, সেখানে কর কমালেন না। যে খাতে লুটপাট হচ্ছে, কমালেন সেখানে। আমার এক সহকর্মী মাহমুদ গজনির সোমনাথ মন্দির লুটের কথা বলেছেন। আমি বলছি, নাদির শাহের দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দুষ্ট বিড়ালকে কুকি দিলেন, পরদিন দুষ্ট বিড়াল দুধ চাইবে। আর ভালো বিড়ালকে রিওয়ার্ড দিলেন না। এতে করে রাজস্ব আদায় কমে যেতে পারে।’ ব্যারিস্টার শামীম আরও বলেন, ‘এতবড় বাজেট বক্তৃতায় বিচার বিভাগ নিয়ে দুটি কথা বলা হয়েছে। এ বাজেট ব্যুরোক্রেটিক বাজেট। যখন এ ধরনের বাজেট হয়, তখন বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এত বেশি বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে, যে কারণে ব্যয় বেড়ে গেছে। উন্নয়নে বরাদ্দ কমছে। মাঝে মাঝে আমি বলি এটি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার, নাকি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের সরকার।’

বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এনামুল হক, ইসরাফিল আলম ও কাজী রোজী। মির্জা ফখরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লন্ডনে বৈঠকের সমালোচনা করেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে শুধু বৈঠকই করেননি, ভূরিভোজও করেছেন। ওখানে বসে কী ষড়যন্ত্র করছেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একজন সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আইনের ব্যত্যয় ঘটে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন, সেদিকে মনোযোগী না হয়ে বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।’

ইসলামের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আল্লাহর নাম নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এ দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। তার হাত ধরেই বিশ্ব ইসলামী সংস্থা ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরপরই এ দেশে মদ-জুয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’