প্রচ্ছদ

ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে গলাকাটা ভাড়া

প্রকাশিত হয়েছে : ১:২৩:৩০,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০১৮ | সংবাদটি 0 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ উৎসব উপলক্ষে স্বজনদের কাছে ছুটতে শুরু করেছে মানুষ। আর এ সুযোগে গলাকাটা ভাড়া হেঁকেছে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ, বাস ও বিমানগুলো। লঞ্চ ও বাসে ২০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানের ভাড়া দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে; যা আজ (বুধবার) থেকে কার্যকর হচ্ছে। লঞ্চ মালিকদের দাবি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। ঈদ উপলক্ষে সরকারি রেট কার্যকর করা হচ্ছে মাত্র।

সারা বছর রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোয় ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা নেয়া হয়। আর সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া নেয়া হয় ৯০০ এবং ডাবল কেবিন ১৮০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নেয়া হয় প্রকারভেদে ৩-৫ হাজার টাকা। কিন্তু ঈদ এলেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত তুলে মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। সে অনুযায়ী এবারও সরকার নির্ধারিত রেটের অজুহাতে আজ থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে ডেকের ভাড়া ২৫০ টাকা, সিঙ্গেল (এসি/নন-এসি) ১১০০ এবং ডাবল (এসি/নন-এসি) ২২০০ টাকা এবং ৪ হাজার টাকার ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা।

ঈদ উদ্যাপন করতে ঢাকা থেকে বরিশালে আসা গোলাম মোস্তফা নামে এক লঞ্চযাত্রী জানান, লঞ্চমালিকরা দুই ধরনের রেট দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করছেন। প্রতিবছরই তারা এভাবে প্রতারণা করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেই না। তবে স্বাভাবিক সময়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিয়ে থাকি। ঈদের সময় সদরঘাট বা বরিশাল লঞ্চঘাটের এক প্রান্ত থেকে যাত্রী ছাড়াই ফিরতে হয়। তাই এ সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকি।’

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদে ভাড়া বেশি নেয়া হয় না। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি নেয়া হয়। তারপরও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেয়া হচ্ছে। এরপরও যদি কোনো অভিযোগ আসে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এদিকে সড়কপথেও নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আগে যে বাসে প্রতি টিকিটে নেয়া হতো ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এখন প্রতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। নৌ ও সড়কপথের মতো ঈদে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথেও বেড়েছে ভাড়া। বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা-বরিশাল রুটে সপ্তাহে ৩ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ বিমান রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এবং ইউএস-বাংলা শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রীদের অভিযোগ- ঢাকা থেকে বরিশাল আসতে ১৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বা ইউএস-বাংলার নির্ধারিত দিনের কোনো ফ্লাইটের টিকিটই ৬ হাজার ৫০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা জানান, নিয়মানুযায়ী ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে প্রথম ৩০টি আসন ভ্যাটসহ ইকোনমি প্রাইজে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথা। কিন্তু ঈদের প্রাক্কালে সে নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার ইউএস-বাংলা ঢাকা-বরিশাল রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি একটি বাড়তি ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করা হয়। ওই ফ্লাইট দুটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালে আসে। ঢাকা থেকে বরিশাল আসতে ৭৬ আসনের ফ্লাইট দুটির প্রথম ৭টি আসনের মূল্য ধরা হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি আসনগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এদিন বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার প্রথম ফ্লাইটটির প্রতি আসনের মূল্য ধরা হয় ১৮৯৯ টাকা এবং ২য় ফ্লাইটের প্রতি আসনের মূল্য ধরা হয় ২৬৯৯ টাকা। আজ বুধবারের বিশেষ ফ্লাইটিতে ঢাকা থেকে বরিশাল আসার প্রতিটি আসনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার টাকা। তার বিপরীতে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার ভাড়া ধরা হয়েছে ১৮৯৯ টাকা। ১৯ জুন বরিশাল থেকে ঢাকার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকা। ২১ জুন ৭৫০০ থেকে ৮৫০০ এবং ২৩ জুন ৭০০০ থেকে ৭৫০০ টাকা।

ইউএস-বাংলার বরিশাল স্টেশন ইনচার্জ সাইফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সারা বছর আমাদের এয়ারলাইন্সের ই-টিকিটিং বুকিং খোলা থাকে। এ কারণে শেষের দিকে হয়তো টিকিটের দাম বাড়তি রাখা হয়। ঈদের আগে ও পরে ঢাকা থেকে আসতে এবং বরিশাল থেকে ঢাকায় যেতে ২৬৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিমানেও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ আছে। একাধিক যাত্রী জানান, তারা ৬৫০০ টাকা দিয়ে ১২ জুনের টিকিট নিয়েছেন। একই দিনে বরিশাল থেকে যাওয়ার ভাড়া ধরা হয়েছে মাত্র ২০০০ টাকা। ১৩ জুলাই (আজ) বিমানের স্পেশাল ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বরিশাল আসতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০০ টাকা। এদিন বাংলাদেশ বিমান সর্বনিু ১৫০০ টাকায় বরিশাল থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করবে। এদিন সব ধরনের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৬৫০০ টাকা করে। একইভাবে ঈদের পর ১৭ জুন বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে সব ধরনের আসনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫০০ টাকা।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ বিমান বরিশাল অফিসের ব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কেন্দ্রীয়ভাবে। বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই। যাত্রীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে আগাম বুকিংয়ের কারণে কোনো যাত্রী শেষ সময়ে টিকিট নিলে তখনকার সময় অনুযায়ী ভাড়া রাখা হয়। এভাবে ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।