প্রচ্ছদ

গাড়িতে উঠার পর গৃহবধূকে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে রনি

প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৫:২৬,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০১৮ | সংবাদটি 0 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কলেজগেটে ধর্ষণের শিকার ২১ বছরের তরুণী বিবাহিত। শ্যামলীর বাসিন্দা এ গৃহবধূ জরুরি প্রয়োজনে ফার্মগেটে যেতে গাড়ির জন্য সড়কে অপেক্ষা করছিলেন।

কিন্তু রাস্তায় কোনো যানবাহন না পেয়ে তিনিসহ আরও এক তরুণী ধর্ষক মাহমুদুল হক রনির প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯-৫৪১৪) লিফট নেন। তাদের মধ্যে এক তরুণী শিশুমেলায় নেমে যান।

এরপরই সামনে থেকে গাড়ির পেছনের আসনে চলে আসেন মদ্যপ রনি। তিনি শ্যামলীর গৃহবধূকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে তার মুখ রুমাল দিয়ে বেঁধে ফেলেন।

এরপর শিশু মেলা থেকে কলেজ গেটে আসার পথে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন রনি। ওই সময় নিজেকে বাঁচাতে ধস্তাধস্তি করতে থাকেন তরুণী।

এ অবস্থায় প্রাইভেটকারটি কলেজগেট সিগন্যালে জ্যামে আটকা পড়লে পথচারীরা এসে গৃহবধূকে রক্ষা করে। তারা রনি ও গাড়িচালক ফারুককে আটক করে মারধরের পর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

পরে রোববার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে মাহমুদুল হক রনির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

ওই মামলায় সোমবার থেকে শেরেবাংলা নগর থানায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন রনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিনহাজ উদ্দিন মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে জানান, ধর্ষণের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অপহরণ-ধর্ষণে সহযোগী গাড়িচালক ফারুককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এছাড়া ঝিগাতলা নিবাসী রনি রাজধানীতে আর কোনো অপরাধকর্মে জড়িত আছেন কিনা রিমান্ডে তার তথ্য জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মিনহাজ।

জানা গেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রনি স্বীকার করেছেন, প্রায় রাতেই গাড়ি নিয়ে তিনি লং ড্রাইভে বের হন। এ সময় বন্ধুরাও তার সঙ্গী হয়ে থাকে। তারা সবাই মিলে মাদকসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সেবন করেন।

আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার অগ্রগতির বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গণেশ গোপাল (জিজি) বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে তাই অভিযোগ প্রমাণ করা সহজ হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় কলেজগেট সিগন্যালে মদ্যপ রনি ও গাড়িচালক ফারুককে আটক করে ব্যাপক মারধরের পর জনতা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এরপর ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে রাফি আহমেদ নামে একজন ওই ঘটনার বিবরণসহ একটি ভিডিওচিত্র সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এদিন দুপুর পর্যন্ত রনিকে আটক ও ধর্ষণের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছিল না ওই থানার পুলিশ।

অন্যদিকে রাফি আহমেদকে মোবাইল ফোনে বারবার হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্ত রনির ঘনিষ্ঠজনরা। এর পর রাফি ফেসবুক থেকে তার স্ট্যাটাস ও ভিডিও মুছে ফেলেন।

তবে দৈনিক যুগান্তরে কলেজগেটের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত রনির নাম-পরিচয়সহ প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুপুর আড়াইটার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনার কথা নিশ্চিত করেন।

এ সময় ওসি জিজি বিশ্বাস যুগান্তরকে জানান, আটক রনিকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল তাকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে পাওয়ার পর রনির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। পরে রোববার রাতে রনির গাড়িতে থাকা দুই তরুণী শেরেবাংলা নগর থানায় এসে হাজির হন। এর মধ্যে ২১ বছরের এক তরুণী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

মামলার পর দুই তরুণীকে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

পরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে সোমবার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রনিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মিনহাজ উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিব তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।