প্রচ্ছদ

নেতার নির্দেশনা নিতে এসেছি

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪৩:০৭,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০১৮ | সংবাদটি ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ এক মহাসংকটে নিপতিত। গণতন্ত্র শৃঙ্খলিত। দেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের মা আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। এ অবস্থায় আমাদের প্রিয় নেতার নির্দেশনা নিতে লন্ডনে এসেছি।

রোববার লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির ইফতারপূর্ব এক আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশাল এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রিট নর্থ এর দি রয়্যাল রিজেন্সি হোটেলে যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে এই ইফতার মাহফিল ও আলোচনার আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে সহস্রাধিক বিএনপি সমর্থক প্রবাসী নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।

খারাপ অবস্থায়ও ভেঙে না পড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হতাশার কোনো কারণ নেই। রাতের পরেই হবে নতুন সূর্যোদয়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা পাঠ করেন ফখরুল। ‘যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে, সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া… তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।’

খালেদা জিয়া ‘গুরুতর’ অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিলম্বে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন পড়ে গিয়েছিলেন। হোঁচট খেয়ে পড়ে যাননি, তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে পড়ে গিয়েছিলেন। অবিলম্বে তার চিকিৎসা দরকার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাধাবিপত্তি আসবে, সংগ্রাম করে যেতে হবে। বিএনপির দুর্দিনে আমাদের একজন নেতাকর্মীকেও নিজেদের দলে টেনে নিতে পারেনি সরকার। আমরা খুব আশাবাদী, দেশে জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন এবং তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরবেন। সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সারা দেশের মানুষ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সক্রিয়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে আপনি নেতার আসনে আসীন হয়েছেন। আপনার চলার পথ মোটেই কসুমাস্তীর্ণ ছিল না। আপনার দিকে দেশবাসী প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশকে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে আনার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।

দেশের জন্য খালেদা জিয়া অনেক ত্যাগ আর কষ্ট স্বীকার করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় তার কার্যালয় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক এমনি সময়ে ছোট ছেলের মৃত্যু সংবাদ পান। মায়ের সামনে ছেলের লাশ, কত কষ্টের ভাবা যায়। তার বড় ছেলে আজ নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। স্বামী হারিয়েছেন শত্রুর হাতে, বড় ছেলে দেশের বাইরে আর তিনি কারাগারে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

আন্দোলনে সফলতার প্রত্যাশা জানিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে!’ কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন তিনি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com