প্রচ্ছদ

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৪১:০৩,অপরাহ্ন ০৮ জুন ২০১৮ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে নানামুখী উদ্যোগ থাকলেও ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, কর্পোরেট করহার কমানোর মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়নি।এ ধরনের আরও কিছু ছোট ছোট বিষয় ছিল, যেগুলো নজরে আনা উচিত ছিল। পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন। যুগান্তরের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এ ব্যবসায়ী নেতার মতে, বাজেট হচ্ছে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এ পরিকল্পনায় সবদিক বিবেচনায় নেয়া দরকার। তারপরও বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। যদিও বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সে হারে বাস্তবায়ন হয়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্ব হলে ব্যয় বাড়ে, অর্থনীতিও তার কাক্সিক্ষত সুফল পায় না।

মহিউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকের কর্পোরেট করহার কমানো হয়েছে, এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি সুদহার কিছুটা কমবে বলে আশা করছি। তবে অন্য খাতে কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়টি আমলে নেয়া উচিত ছিল।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ঘোষিত বাজেট প্রস্তাবিত। এ বাজেট চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় খুঁজে পাওয়া গেলে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের পর তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে। সরকার অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করবে বলে আশা করছি।

বাজেটে যা চেয়েছি তা পাইনি -ডিসিসিআই : প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে যা চাওয়া হয়েছে তা পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই বোর্ড রুমে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল সেরকম হয়নি। আমরা সরকারের কাছে প্রায় ৪১টি প্রস্তাব দিলেও মাত্র ৪ থেকে ৫টি রাখা হয়েছে। শতাংশ হিসাবে আমরা ১০ শতাংশও আদায় করতে পেরেছি। বলতে পারি যা চেয়েছিলাম প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৩৭.৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪২.৫ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও, পাবলিকলি ও নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি এবং মার্চেন্ট ব্যাংক খাতে বিদ্যমান কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

যার কারণে পুনর্বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জিডিপিতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বিদ্যমান ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কর্পোরেট কর হার কমানো না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।

অথচ জিডিপিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ শতাংশ বাড়াতে হলে প্রায় ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হলে কর্পোরেট সেক্টরের সব খাতে করের হার ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ হারে কমানো প্রয়োজন।তিনি বলেন, আমরা কর্পোরেট ট্যাক্স ও ইনকাম ট্যাক্সে ছাড় চেয়েছি, কিন্তু পাইনি। তবে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স সেক্টরে কর্পোরেট ট্যাক্স ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা চাই, অন্যান্য সেক্টরেও ট্যাক্স কমানো হোক। প্রস্তাবিত বাজেটে বন্দর, লোকাল ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ দেয়া হয়েছে, এজন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। আমরা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় রাখবে সরকার।

তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com