প্রচ্ছদ

এমনভাবে জাকাত দাও যাতে অসহায়রা ধনী হয়ে যায়

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২৫:৫২,অপরাহ্ন ০১ জুন ২০১৮ | সংবাদটি ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামের চেতনা হল, দরিদ্র ব্যক্তিকে এই পরিমাণ জাকাতের অর্থ দেয়া যাতে দ্বিতীয়বার তাকে আর জাকাতের জন্য হাত পাততে না হয়। কারণ হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা অসহায়দের জাকাত দেবে তখন তাকে ধনী বানিয়ে দেবে।’

বাংলাদেশে বর্তমান যে নিয়ম বা পদ্ধতিতে জাকাত বিতরণ করা হয় এর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইসলামের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি মেনে প্রতিবছর জাকাত আদায় করলে গরিবের স্থায়ী কল্যাণের ব্যবস্থা হতো।

হজরত ওমরের এ বাণী ক’জন আমলে নেয়? প্রতিবছরই ধর্মপ্রাণ মুসলমান গতানুগতিক ধারায় জাকাত দিয়ে আসছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন বিবেকবানদের কাছে, স্বনির্ভর বাংলাদেশ অথবা দারিদ্র্যবিমোচনে এই জাকাত কী কোনো ভূমিকা পালন করছে? বছরে কত হাজার পরিবার অভাবমুক্ত হয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে- এমন কোনো জরিপ কী কারও কাছে আছে? তার দাবি হল, পরিকল্পিতভাবে সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সঠিক তত্ত্বাবধানে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে জাকাত দিলে জাকাতের সুফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি গরিব-অসহায়দের তুলে আনতে সিজেডএমের কার্যক্রমকে আট ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন- জীবনমান বিকাশে ‘জীবিকা’ কর্মসূচি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নে ‘মুদারিব’, দরিদ্র বেকার যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে ‘নৈপুণ্য বিকাশ,’ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি কর্মসূচি ‘জিনিয়াস’, এমনিভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও শিক্ষা ও পুষ্টি সহায়তার জন্য ‘গুলবাগিচা,’ দুস্থ নারীদের জন্য ‘ফেরদৌসি,’ জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য ‘ইনসানিয়াত’ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জাকাত বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণে ‘দাওয়াহ’ কার্যক্রম চালু করেছেন।

তিনি বাংলাদেশের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব রহিম আফরোজের মালিক জনাব নিয়াজ রহিম। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। এক দুপুরে জনাব নিয়াজের মুখোমুখি হয়ে জানতে চাইলাম- জাকাত নিয়ে তার ভিন্ন চিন্তার কথা। বললেন, ‘সিজেডএম’ একটি দরিদ্রবান্ধব সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৮ সালে। উদ্দেশ্য, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অবশ্য পালনীয় বিধান জাকাতের তাৎপর্য সবার কাছে তুলে ধরা এবং জাকাত তহবিল সংগ্রহ করে তা বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে বিতরণ করা। কোরআন ভাবুক নিয়াজ মনে করেন, একটি শাড়ি-লুঙ্গি বা ৫০০/১০০০ টাকায় যারা জাকাত দিচ্ছেন তারা মূলত গরিবদের সারা জীবনই দরিদ্র করে রাখতে চান। বাংলাদেশের চলমান ধারার জাকাত দারিদ্র্যবিমোচন করছে নাকি বিত্তবানরা জাকাত বিলিয়ে দরিদ্রের লালন করছেন- এটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

জানতে চেয়েছিলাম দশ বছরে ‘সিজেডএম’-এর প্রাপ্তি কী? কতটুকু সফল হয়েছেন? বললেন, কাজের জন্য সময়টা খুবই অল্প। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, বলতে পারি আমরা সফল। কারণ আমাদেরও শুরুটা ছিল মাত্র নব্বই হাজার টাকায়। এর পরের বছর হয়েছে ছয় লাখ টাকা। গত বছর প্রায় ২৩ কোটি টাকার সহায়তা করেছি বঞ্চিতদের। আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের কারণে পঁয়ত্রিশটি গ্রামের প্রায় চার লাখ পরিবার এবং প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রসহ মানুষ ভালো অবস্থানে আছেন।

এ কাজের স্বীকৃতির জন্য ২০১৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের ইসলামিক ইকোনমিক অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড জাকাত ফোরাম আমাদের ইনভাইট করেছিল ইন্দোনেশিয়াতে। সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা স্কলাররা কোরআন, হাদিস, ফিকাহর আলোকে জাকাতের ওপর আলোচনা করেছেন।

আমি বলব, তারা শুধু গাল-গল্প করে গেছেন! একমাত্র আমরাই আলোচনা করেছি জাকাতের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে, আমাদের চলমান কার্যক্রম বিষয়ে। সেখানে ইউএনের এক মহিলা ছিলেন যিনি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, আমরা তো এটাই দেখতে এসেছিলাম!নিয়াজ রহিমের ভিন্নতা হল- তার চিন্তার প্রসারতা। কর্পোরেটপাড়ায় কোম্পানিভিত্তিক জাকাতের আওয়াজ তুলেছেন তিনি। মেলা করে জাকাত বিষয়ে বিত্তশালীদের উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন সংযোজন করেছেন জাকাত মেলার মাধ্যমে। উসর নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে তার। দান/সদকার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, এতিমখানা বা কবরস্থানসহ জনহিতকর অবকাঠামো নির্মাণ করেও সদকায়ে জারিয়ার পুণ্য অর্জনের জন্য আওকাফ তহবিল গঠন করতে চান তিনি। সবাই যদি এমনটা ভাবত, তাহলে মদিনা রাষ্ট্র হতে বেশি দিন লাগবে না। সার্বিক নিয়মে জাকাত বণ্টনের তৌফিক দিন আল্লাহ আমাদের।