প্রচ্ছদ

‘কোটার প্রজ্ঞাপনের দাবিতে পর্যন্ত ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকবে’

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৪৯:৫৬,অপরাহ্ন ১৫ মে ২০১৮ | সংবাদটি ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। তবে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকবে তবে নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে আন্দোলনকারীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিলেও বেশকিছু বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে।

এ বিষয়ে কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরের কাছে জানতে চাই তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধি দলের আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজপথের আন্দোলন স্থগিত করেছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো প্রতিনিধি দলে কারা ছিলেন জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান নুরুল হক। নুরুল হক আরও বলেন, এ নিয়ে তিনবার আমরা সরকারকে সময় দিলাম। আমরা সরকারের কথায় আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করলাম। দেখা যাক সরকার আমাদের বিশ্বাসের কী প্রতিদান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন হয়ে যাবে। তবে আমরা চাই প্রজ্ঞাপন। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট চলবে।

প্রজ্ঞাপনে কোটা প্রথা বাতিল হবে নাকি সংস্কার করা হবে এমন প্রশ্নে হাসান আল মামুন বলেন, তাদের (প্রতিনিধি দল) সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে কোটা পুরোপুরি বাতিল হবে না, সংস্কারই হবে। এবিষয় জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে সেভাবে আন্দোলন করা উচিত। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যাতে ব্যাহত না হয় এ বিষয় সবাইকে যন্তশীল হতে হবে। এবিষয় আমার আপনার ও সরকারের নজর রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল থেকে টানা ৪ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে। পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করে ঘরে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।