প্রচ্ছদ

প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে

প্রকাশিত হয়েছে : ২:১৪:৪৮,অপরাহ্ন ১৪ মে ২০১৮ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

সোমবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন।

রোববার কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশ থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেন।

আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারে প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন তারা। প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আন্দোলন চলবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

সকাল ১০টায় বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে জড়ো হন। পরবর্তী সময়ে তাদের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারী সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক বলেন, রোববার বিকাল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন আসেনি। তাই সোমবার সারা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট চলবে। কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

তিনি আরও বলেন, এ আন্দোলন সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। শিক্ষকদের অনুরোধ করব, অতীতে আমাদের দাবির প্রতি আপনাদের যে সমর্থন ছিল তা এখনও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছেন। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। ফলে নগরী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ট্রেন যেতে পারেনি। নগরীর ষোলশহর এলাকায় সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

নোয়াখালীতে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বাধা দেয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তারা অনেক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে যায় এবং ফোনের ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে চার দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন।

পর দিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি- আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে।

এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্য কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান।

পরে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটাপদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পর দিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন।

এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

পর দিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটাব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

এর পর গত ৭ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছিলেন, সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিল বা সংস্কারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

তার এ বক্তব্যের পর গত ৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

এ সময় তারা ঘোষণা দেন ১০ মের মধ্যে কোটা সংস্কারে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে সারা দেশে সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

সর্বশেষ গতকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

বিকালের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ সোমবার থেকে সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com