প্রচ্ছদ

শুরু হয়নি কয়লাবোঝাই কার্গো উদ্ধার, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে : ১:০৭:৩৯,অপরাহ্ন ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

সুন্দরবনের শ্যালা নদীর হাড়বাড়িয়ায় পয়েন্টে সাড়ে ৭৭৫ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে এমভি নিলয়-২ নামের কার্গো জাহাজ ডোবার তিনদিন পরেও শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ।

এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের আশপাশের নদীগুলোতে বারবার জাহাজ বা কার্গোডুবির ঘটনা পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত। এর ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়াসহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে সুন্দরবনের পরিবেশ।

জানা গেছে, সুন্দরবনের হারবাড়িয়া এলাকার ৬ নম্বর অ্যাকরেজে থাকা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি অবজারভার’ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে। জাহাজটি থেকে রবিবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে কয়লা নেওয়া হয় ঢাকার ইস্টার্ন ক্যারিয়ার ন্যাভিগেশনের মো. সোহেল আহম্মদের ‘এমভি বিলাস’ কার্গো জাহাজে। ইট ভাটা ও সিরামিক কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী কয়লা খুলনার দুলাল এন্টারপ্রাইজের জন্য নিয়ে কার্গো জাহাজটি রাজধানীর মিরপুরের পথে রওনা দেয়। কিছু দূর এগোনোর পরই ডুবোচরে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে ডুবে যায় এমভি বিলাস।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়লার জাহাজডুবিতে সুন্দরবনের জলজ প্রাণীদের অস্তিত্বসহ জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারণ এ কয়লা সাধারণত ইট ভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব কয়লায় সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় তা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে।’ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও জাহাজ ডুবলে ওই জাহাজের ভেতরে থাকা তেল বা মবিলও পানির সঙ্গে মিশে যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

এদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া ১৫ দিনের মধ্যে কার্গো জাহাজটি আদৌ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ এর আগে বন্দর চ্যানেলে যেসব নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটেছিল তাতে সময় লেগেছিল কোনোটির মাসের অধিক আবার কোনোটির কয়েক মাস।

কার্গো জাহাজের ড্রাইভার মো. আমির হোসেন বলেন, ‘ডুবন্ত কার্গো জাহাজের ফিটনেস ও ধারণ ক্ষমতা সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্সের কাগজপত্রসহ উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত নৌযান এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিলম্ব হওয়াতেই মূলত মালিকপক্ষ কাজ শুরু করতে পারছে না।’

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হাড়বাড়িয়ায় কয়লার জাহাজ ডুবিতে বনের জলজ-প্রাণিজ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চাদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির সোমবার বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে (বাগেরহাট) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও সময় মতো তা দিতে পারেননি। তবে আজ যেকোনো সময় প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালেও ডুবন্ত কার্গো জাহাজটি উদ্ধারে কাজ শুরু করতে পারেনি মালিকপক্ষ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্গোটি উত্তোলনের জন্য মালিকপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। উদ্ধারের নামে সময়ক্ষেপণ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com