সোমবার, ১৬ এপ্রি ২০১৮ ০৯:০৪ ঘণ্টা

‘এই বিশ্রামটা খালেদা জিয়ার প্রয়োজন ছিল’

Share Button

‘এই বিশ্রামটা খালেদা জিয়ার প্রয়োজন ছিল’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগের থেকে অনেক সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। যখন কারাগারে যাননি তখন এত ভালো ছিলেন না। এই বিশ্রামটা তার প্রয়োজন ছিল।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া যখন কারাগারে যাননি তখন সভা-সমাবেশে আমরা দেখতাম তাকে হাত ধরে গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে আবার হাত ধরে গাড়িতে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কদিন আগে যখন তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে গেলেন তখন ডাক্তাররা উনার হাত ধরতে চেয়েছিলেন উনি বলেছিলেন ধরতে হবে না। উনি নিজেই হেঁটে নেমেছেন নিজেই হেঁটে গাড়িতে উঠেছেন। অর্থাৎ তিনি সুস্থ আছেন, আগের চেয়েও ভালো আছেন। এই বিশ্রামটা তার প্রয়োজন ছিল।

এ সময় তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে বিধির বাইরে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে কেউ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ পাওয়ার সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের মধ্যে আছেন। বাংলাদেশের আইন এবং বিধান অনুযায়ী কারাগারের মধ্যে পছন্দনীয় গৃহপরিচারিকা রাখার সুযোগ নেই। বেগম জিয়া তার পছন্দের গৃহপরিচারিকাকে সঙ্গে রাখতে পেরেছেন, যা আগে কখনো কেউ পায়নি। সুতরাং আর কি কি সুবিধা পেলে দেশের আইন জেল কোডের বিধান অমান্য করে আপনাদের ভাষায় তিনি আরও ভালোভাবে থাকতে পারবেন সেটি আমার জানা নেই।

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না-বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমি আগেও বলেছি এবং আজকেও বলব আপনাদের রাজনীতি কি দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত বেগম জিয়াকে রক্ষা করা নাকি বিএনপিকে রক্ষা করা? যদি বিএনপিকে রক্ষা করাই আপনাদের রাজনীতি হয় তাহলে অবশ্যই আপনারা আগামী নির্বাচনে আসবেন। আর যদি গতবারের মতো বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত এবং তারেক রহমানের পরামর্শে নির্বাচনে না আসেন তাহলে আপনাদের দুরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন তো আপনাদের (বিএনপির) নেতাকর্মীরা গর্তের মধ্যে আছে তাও গর্তের মধ্যে দেখা যায় কিন্তু ভবিষ্যতে গর্তের মধ্যেও আর দেখা যাবে না।

হাছান মাহমুদ বলেন, সংস্কৃতির মধ্যে কেউ কেউ ধর্মকে টেনে আনতে চাই যেটি কখনোই কাম্য নয়। যারা সংস্কৃতিকে ধর্মের মধ্যে টেনে আনে তারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়। এর পেছনে কাজ করছে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী। তাই ৭৫-এর পর বিএনপির নেতৃত্বে, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশটাকে আবার বিভক্ত করার অব্যাহত প্রচেষ্টা আছে। পহেলা বৈশাখে বিএনপি অফিসের সামনে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাতে দেশীয় সংস্কৃতির চেয়ে বিজাতি সংস্কৃতি বেশি প্রধান্য পেয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক ফজলুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, আরব আমিরাত আওয়ামী লীগের সভাপতি আল মামুন সরকার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক প্রমুখ।