প্রচ্ছদ

নৌবিহারে মদপানে যুবলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১৬:০৯,অপরাহ্ন ০৯ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীপথে ভ্রমণে গিয়ে মদপান করে যুবলীগ নেতাসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। শনিবার ও রোববার তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার তিন শতাধিক লোক নৌভ্রমণে যান।

নিহতরা হলেন- কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া হাসান জাকির (৩৫), কালিগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের কাটিং মাস্টার বিপ্লব হোসেন (৪০) ও নৌবিহারে গানের দলের গিটারিস্ট সুমন (২৮)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার কেরানীগঞ্জের আলম টাওয়ার খেয়াঘাট থেকে দিনব্যাপী নৌবিহারে গিয়েছিলেন হতাহতরা। ভাড়া করা লঞ্চযোগে নদীপথে চাঁদপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করে রাতে সবাই ফিরেন আসেন। নৌবিহারে তিন শতাধিকের মতো লোক থাকলেও ৫০-৬০ জন মদপান করেছেন। তাদের বেশির ভাগই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শনিবার সকালে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান জাকারিয়া জাকির ও গিটারিস্ট সুমন। রোববার সকালে মৃত্যু হয় বিপ্লবের। অনেকেই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে বাকিরা এখনও ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও চাঁপা উত্তেজনা বিরাজ করছে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীখ্যাত কালিগঞ্জ এলাকায়। নিহত জাকারিয়া জাকির ও বিপ্লব দুজনেই তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও আহতদের বেশির ভাগ কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে তৈরি পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।

জানা গেছে, গুদারাঘাট খাজা সুপার মার্কেট বন্ধুমহলের উদ্যোগে নৌবিহারের আয়োজন করেন শাহীন, মিঠু, সিদ্দিক ও আরিফসহ আলম টাওয়ার মার্কেটের কয়েক ব্যক্তি। দিনব্যাপী এ নৌবিহারে বুড়িগঙ্গা থেকে চাঁদপুরের মোহনায় ঘুরে আসার প্রোগ্রাম করা হয়। এ জন্য জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে চাঁদা নেয় আয়োজকরা।

শুক্রবার সকালে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর আলমটাওয়ার ঘাট থেকে ভাড়া করা লঞ্চটি ছেড়ে যায়। দিনব্যাপী নৌবিহারে আয়োজকরা নাচগান, খাওয়া ও মদপানের আয়োজন করে। তবে লঞ্চে মদের আসর বসিয়ে মদ বিক্রি করেন মোস্তাফিজুর ও মিঠু। তাদের সহযোগিতা করেন বাচ্চু ও হান্নান।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, এটা আমরা মানতে পারছি না। নৌবিহারের নামে একটা ব্যবসা শুরু হয়েছে। নৌযানের ভেতর বেহায়াপনা, জুয়ার আসর ও মদপানের আসর বসানো হয়। অচিরেই এগুলো বন্ধ করা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, নৌবিহারে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি টাকা কামানোর ধাক্কায় মদের নামে নিম্নমানের স্পিরিট লোকজনকে সরবরাহ করেছে। যার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি চাই।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল আজিজ শেখ বলেন, আমরা নানা কথা শুনতে পাচ্ছি। কেউ বলছেন ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। কেউ বলছেন সাতজন। যাই হোক বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত চাই আমরা। নিহতের মধ্যে দুইজন আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করতেন।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার একজন অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com