বুধবার, ০৪ এপ্রি ২০১৮ ১১:০৪ ঘণ্টা

রাইসার হত্যার ভয় কাটছে না

Share Button

রাইসার হত্যার ভয় কাটছে না

পাঁচ বছর বয়সী কন্যা শিশু রাইসার চোখের সামনে মা ও ভাইকে খুন করা হয়েছে। গলা টিপে খুন করতে চেয়েছিল তাকেও। তবে, গলা চেপে ধরার পর সে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় হত্যাকারীরা। পরে তার জ্ঞান ফিরলে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে মা ও ভাইয়ের লাশ।

দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারছিল না সে। এভাবে পেরিয়ে গেছে এক দিন। কান্না করতে থাকে সে। পরে তার মামা গিয়ে কান্নারত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে। তবে, সে স্বাভাবিক হতে পারছে না। কিছুক্ষণ পরপর বারান্দার গ্রিলের পাশে দাঁড়িয়ে অথবা অভ্যর্থনা টেবিলে বসে চিৎকার করে কান্না করছে। পুরুষ কাউকে দেখলে ভয়ে আতকে উঠছে। দরজার আড়ালে দৌঁড়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকে।

বুধবার বিকেলে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। তখন তাকে চিৎকার করে কান্না করতে দেখা গেছে। ছোট রাইসা চিৎকার করে বলছে, ‘‘আমার মা আমায় অনেক আদর করত, ভাইয়া অনেক আদর করত, তাদের মেরে ফেলেছে। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিও।’

গত ১ এপ্রিলে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে এসএসসি ফলপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রোকনের (১৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে তার মেয়ে শিশু রাইসাকে (৫) জীবিত উদ্ধার করা হয়।

মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রোকেয়া বেগম বলেন, হত্যার ঘটনায় রাইসার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। এমনকি তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেই কক্ষের চাবি সে বার বার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা এখানে এসে কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে। কোনো ছেলে বা পুরুষ দেখলে রাইসা লুকিয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, মা ও ভাই হত্যার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রাইসা। এ কারণে তার জবানবন্দি মামলার প্রধান সূত্র হিসেবে কাজ করবে। তার অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় তাকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। তবে, মঙ্গলবার রাতে আটক নাজমুলের ছবি দেখানোর পর সে তাকে শনাক্ত করতে পেরেছে।

এ ঘটনায় নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার মুক্তির চক এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। তাকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।