প্রচ্ছদ

কলংক মুছতে জীবন দিলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী শান্তা

প্রকাশিত হয়েছে : ৯:০৭:৫০,অপরাহ্ন ০২ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসে সুখের সংসার পাতার আশ্বাস ও স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারক প্রেমিক কর্তৃক সম্ভ্রম-সতীত্ব লুটে নেয়ার গ্লানি সহ্য করতে পারলেন না এইচএসসি পরীক্ষার্থী শান্তা আক্তার (২০)। আর তাই জীবন বিসর্জন দিলেন তিনি।

এইচএসসি পরীক্ষার আগের দিন রোববার নিষ্ঠুর পৃথিবীকে শেষ বিদায় জানান তিনি। সাত দিন আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল শান্ত। রোববার তার মৃত্যু হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকচুরি গ্রামের এ ঘটনায় রোববার রাতেই সদর মডেল থানায় শান্তার বাবা শরীফ মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। আর শান্তার মৃত্যুর খবরে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে প্রেমিক যুবক ও তার পরিবার। মামলায় প্রেমিক যুবক ও তার বাবাকে আসামি করা হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় রুজুকৃত মামলা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণকচুরি গ্রামের ফিরোজ মিয়ার মেয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (বিজ্ঞান বিভাগ) শান্তা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইনুল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে শান্তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে মাইনুল।

ঘটনাটি এলাকায় ওপেন-সিক্রেট হয়ে দাঁড়ালে নানা কানাঘুষা শুরু হওয়ায় শান্তা বিয়ের জন্য চাপ দেয় মাইনুলকে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সামাজিক দেনদরবারও হয়। কিন্তু নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে মাইনুল।

সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ শান্তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পালিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাত্রিযাপন করে মাইনুল। পরে পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করবে, এমন আশ্বাস দিয়ে শান্তাকে পরদিন ভোরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি দুপক্ষের পরিবারও অবগত হয়। কিন্তু বাড়িতে পাঠানোর পর থেকে কয়েক দফা শান্তার সঙ্গে ফোনে ঝগড়া হয় মাইনুলের। একপর্যায়ে শান্তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়, বলে ফোনে সাফ জবাব দেয় মাইনুল।

এ প্রতারণা ও সম্ভ্রম-সতীত্ব হারানের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে ২৬ মার্চ সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শান্তা। পরে থাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন।

সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন।

কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজে আইসিইউ বেড না পাওয়ায় তাকে ভর্তি করা জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ভর্তি করা হয় সেন্ট্রাল হসপিটালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে মৃত্যু হয় শান্তা আক্তারের।

এ ব্যাপারে কথা হলে রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, মাইনুল আর শান্তার প্রেমের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে দুই পরিবারের লোকজনদের নিয়ে সালিশ হয়। ছেলের পরিবার মেয়েকে বিয়ে করাতে রাজি নয়। ছেলে বিয়ে করতে পারবে, এমন কথা শুনার পরই আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মেয়েটি।

যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুশামা মো. ইকবাল হায়াত যুগান্তরকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থোকে আসামিরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছে। তাদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।